× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজস্ব আদায়ে বিত্তবানদের দিকে নজর বাড়াতে হবে : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৪৫ পিএম

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। সংগৃহীত ফটো

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। সংগৃহীত ফটো

শুল্ক থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর মনোভাব পরিহার করা দরকার জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, রাজস্ব আয়ের মূল উৎস হওয়া উচিত ব্যক্তি খাতের আয়কর। কারণ দেশে প্রচুর কোটিপতির বিকাশ ঘটেছে। বিত্তবানদের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন আছে। সৌর যন্ত্রপাতির শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যে কর থাকার কোনো দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ‘এক্সপ্লোরিং সাসটেইনেবল এনার্জি পাথওয়েজ: ফোকাসিং অন কস্ট-ইফেক্টিভনেস অ্যান্ড গ্রিন বাজেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ মোটেই সংকটকালে নেই। জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এখনো। যারা সংকটকাল বলছেন, এটি অতিকথন। বরং ইতিহাসের বাঁকবদলের মধ্যে আছে দেশ। গত দেড় দশকে মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে পাঁচগুণ।

তিনি বলেন, ভারতে বিদ্যুৎ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ। তাহলে বাংলাদেশের অতিরিক্ত সক্ষমতা কী দোষ করল? পরিকল্পনা করেই দেশে বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম টাকা ভোক্তার কাছ থেকে নিচ্ছে সরকার।

ড. শামসুল আলম বলেন, অনেকেই বলেন বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠন হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, সেখানে লুণ্ঠন কীভাবে হবে? কাউকে বঞ্চিত করে ন্যায্য পাওনা না দিয়ে অর্থ নিয়ে গেলে সেটাকে লুণ্ঠন বলে। এখানে সেসব কিছুই হয়নি। তাই এখানে লুণ্ঠন-জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা উচিত হবে না। তাই লুণ্ঠনমূলক মুনাফার অভিযোগ ঠিক নয়। উৎপাদন খরচ থেকে ১০ শতাংশ বেশি নিলেও তা লুণ্ঠনমূলক হবে না। 

সংলাপের শুরুতে ‘মূল্যসাশ্রয়ী ও সবুজ বাজেটের ওপর গুরুত্ব রেখে টেকসই জ্বালানির পথ অন্বেষণ’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করে সানেম। এতে এলএনজি গ্যাস আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনার জন্য এ নিবন্ধে তারা পাঁচটি প্রশ্নের অবতারণা করে।

এর মধ্যে আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ, দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস ব্যবহার ব্যবস্থাপনা, এলএনজি আমদানি ও তুলনামূলক খরচ, দেশের গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, এখন জ্বালানি নিরাপত্তা নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল, জ্বালানি তেল কেনার টাকা দিতে পারছে না সরকার। জ্বালানি খাতে লুণ্ঠনমূলক মুনাফা করছে বিপিসি, ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের হাত থেকে শুধু জ্বালানি নয়, সরকারকেও বের করে আনতে হবে। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, শুধু সৌর নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক উপায় আছে। এগুলো কাজে লাগাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি হলে তা অতিরিক্ত। 

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রথম চ্যালেঞ্জ প্রাথমিক জ্বালানির জোগান। এ কারণেই বহুমুখী জ্বালানির ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে, এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এখন দক্ষতা বাড়িয়ে উৎপাদন খরচ কমানোয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, জ্বালানি খাতে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী আছে, যারা সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। জ্বালানি খাত সংকটে পড়েছে, এটা নিয়ে কারও দ্বিধা নেই। এ খাতে সরকার যত উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে সমন্বয় দরকার।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হক, বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান, আরপিজিসিএলের মহাব্যবস্থাপক শাহ আলম প্রমুখ।

মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী ইসরাত হোসেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা