× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জ্বালানি উপদেষ্টার

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ২১:৪৫ পিএম

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জ্বালানি উপদেষ্টার

বিদ্যুতের সংকট সহজেই কাটছে না। আরও তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহি চৌধুরী। রবিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ- বিআইডিএসের এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রিড বিপর্যয় নিয়ে তিনি বলেন, সবাই জানেন, এ সমস্যা কেন হল। ফুয়েল যদি থাকতো আমরা কিনতে পারতাম। তাহলে সবাই ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেত। আমাদের ক্যাপাসিটি অনেক আছে, শুধু ফুয়েলের ঘাটতির জন্য আমরা পারতেছি না।

তৌফিক ই ইলাহি আরও বলেন, আমাদের একটা গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে। এটাকে রিভাইব করতে সময় লাগে। আমাদের তা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে দুই-তিনদিন সময় লেগেছিল। গত বছর পশ্চিমবঙ্গে একটা গ্রিড ফেইল করেছিল, সেখানে ২৩০ মিলিয়ন লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমাদের সরকার সব সময় এ ব্যাপারে সচেতন। আপনার ধৈর্য্য ধরেন। বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফুয়েল ঘাটতি না মেটা পর্যন্ত আপনাদের কষ্ট করতে হবে।

কতদিন ধৈর্য্য ধরতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছিলাম অক্টোবর পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমার ধারণা ছিল আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো উৎপাদনে চলে আসবে। বিদ্যুতের বড় বড় কেন্দ্রগুলো এমন, আপনি ভাববেন দুই মাস লাগবে, দেখা যায় ছয়মাসও লেগে যেতে পারে। আমাদের দুইটা পাওয়ার প্ল্যান্ট আসার কথা, একটা ঝাড়খন্ড থেকে আরেকটা রামপাল। দুটোই পিছিয়ে গেছে। রামপাল এ বছরের শেষে আসতে পারে। আর ঝাড়খন্ড আগামী বছরের শুরুতে আসতে পারে। আরও তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করেন। এই তিন চার মাসে শীত হলে চাহিদা কমবে। সে পর্যন্ত আপনাদের একটু কষ্ট করতে হবে।

ফুয়েল ঘাটতি নিয়ে কোনো ব্যাকআপ প্ল্যান ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাক আপ প্ল্যান হিসেবে আমরা কয়লাকে বিকল্প হিসেবে নিয়েছি। দুঃসময়ে কয়লা আমাদের কাজে দিবে। আমরা আশা করছি এক বছরের জন্য ১ হাজার মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার উৎপাদন করবো। তাহলে দিনের বেলায় আমার ফুয়েল বাঁচলো। এজন্য আমাদের সময় দিতে হবে।

ক্যাপাসিটি চার্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে একটা সহজ উদাহরণ হলো। আপনি কিস্তিতে মোটর সাইকেল কিনলে না চালালেও আপনাকে ইনস্টলম্যান্ট দিতে হবে। চালালেও আপনার খরচ হবে। কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী করলে তার বিনিয়োগের জন্য একটা খরচ দিতে হবে, এটাকে আমরা বলি ক্যাপাসিটি চার্জ। সংকট উত্তরণ হয়ে গেলে আমাদের অর্থনীতি আরও সচল হবে।

সরকারের এই জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের একটা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। এছাড়া ভোলায় আমাদের কিছু গ্যাস বসে আছে। সেই গ্যাসগুলো আমরা সিএনজি করে এদিকে আনতে পারি কিনা, সেজন্য ইতোমধ্যে আমাদের কাজ চলছে। আসা করতেছি ৮০ এমএল সিএফটির মতো গ্যাস ভোলা থেকে আনতে পারবো। আমাদের যেসব কূপ আছে সেগুলোতে আমরা কাজ করছি। সেখানে আসা করছি ১০০ এমএল সিএফটির মতো গ্যাস আনতে পারবো। আর যদি এলএনজির দাম কমে যায়, সেটাতো সোনায় সোহাগা।

কৃষিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোলার ইরিগেশন যদি আমরা করতে পারি, তাহলে ডিজেল আনা লাগতেছে না। অনেকদিন ধরে চেষ্টা হচ্ছে। সোলার ইরিগেশনটা আমরা শক্তভাবে ধরছি। সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনকে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে এটাকে কোনো পন্থা বলা যায় না। তবে একটা চয়েস যদি রাখেন, তাহলে অত খারাপ হয় না। পায়রায় কয়লা না রাখলে তো আমরা আরও বিপদে পড়তাম।

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ভূমিকা কি এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তৌফিক ই ইলাহি বলেন, বাপেক্স একটা কোম্পানি আর পেট্রোবাংলা একটা করপোরেশন। আইন অনুযায়ী তারা নিজেরা নিজেদের কাজ করবে। পৃথিবীতে বড় বড় কোম্পানি নন-টেকনিক্যাল লোক দিয়েই তাদের প্রতিষ্ঠান চালায়। কানাডায় একটা ব্যাংক তাদের টপ ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে আসছে যিনি কোনোদিন ব্যাংকেই কাজ করেননি। টপ ম্যানেজম্যান্ট তো ম্যানেজমেন্ট, তারা অন্যদের সাহাজ্য নিয়ে কাজ করবে। আমি মনে করি বর্তমান চেয়ারম্যান ভালোভাবেই কাজ করছেন।

বাপেক্সে কোনো ষড়যন্ত্র চলছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের গ্রিড এখন খুব টাইট চলতেছে। এটাতে যদি মনোযোগ না দেন, তাহলে প্রাথমিক ওয়ার্নিগুলো মিস করে যাবেন। প্রাথমিক ওয়ার্নিং মিস করলেই বড় বিপর্যয়। সেজন্য আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। যে কন্ট্রোলরুমে বসে আছে, সে যাতে আরেকজনকে দায়িত্ব না দিয়ে না সরে। আমাদের সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।

প্রবা/রনি
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা