চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:৫৭ এএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:৫৮ এএম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সংগৃহীত ফটো
ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টম হাউস থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তৎপর হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ইতোমধ্যে নিজেদের কাস্টডিতে কি পরিমাণ স্বর্ণ আছে, জব্দ করা স্বর্ণের তালিকা অনুযায়ী ওই স্বর্ণ ঠিক আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কাস্টডিতে থাকা স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেজন্য একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার বদরুজ্জামান মুন্সি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকার ঘটনার পর নয়। এটি আমাদের নিয়মিত অফিসিয়াল ওয়ার্ক। স্বর্ণের বার জব্দ করা হলে, সেগুলো আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দিই। কিন্তু মামলা চলমান থাকার কারণে বেশ কয়েক দফায় জব্দ হওয়া স্বর্ণের বারগুলো মামলার আলামত হিসেবে কাস্টম কাস্টডিতে রাখা ছিল। মামলার বিপরীতে জব্দ করা এসব স্বর্ণালংকারও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে হস্তান্তর করব। সেজন্য নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি তালিকা করা হচ্ছে। ওই তালিকা ধরেই স্বর্ণালংকারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করা হবে।’
বর্তমানে কাস্টম হাউসের কাস্টডিতে কি পরিমাণ জব্দ স্বর্ণ আছে তার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরে শুধু চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১৩৪ কেজি।
কাস্টম হাউসের কাস্টডিতে কি পরিমাণ স্বর্ণ আছে জানতে চাইলে উপকমিশনার বদরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তরের জন্য তালিকা তৈরির পর বিষয়টি আমরা অনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাব। এখনও তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়নি।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জব্দ স্বর্ণের ইনভেন্ট্রি কার্যক্রমকে নিয়মিত অফিস ওয়ার্ক বলে দাবি করলেও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টম হাউস থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সন্দেহ থেকে জব্দ স্বর্ণের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। জব্দ করা স্বর্ণগুলো কাস্টডিতে ঠিকঠাক আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখাই এই ইনভেন্ট্রির মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকার ওই ঘটনার পর জব্দ স্বর্ণগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্যই মামলাভিত্তিক জব্দ স্বর্ণের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকা ধরে প্রতিটি মামলায় কতটুকু স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে আর মামলার আলামত হিসেবে কতটুকু কাস্টডিতে রাখা হবে, সেটি নির্ধারণ করা হচ্ছে।’