প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:১৯ পিএম
ফাইল ফটো
২০ দিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা
হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩৬ টাকা যৌক্তিক মূল্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের
কার্যালয়ে আলুর দাম স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পাইকারি, খুচরা বিক্রেতাদের
অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সফিকুজ্জামান বলেন, কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে এ মৌসুমে ১০ থেকে ১২ টাকার মধ্যে
আলু বিক্রি করেছেন। যা অন্যান্য খরচসহ ব্যবসায়ীরা হিমাগারে ১৮ থেকে ২০ টাকা দামের
মধ্যে সংরক্ষণ করেছিলেন। প্রতি কেজি আলুতে হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ ৫ টাকা। এরপর সেটি
রাজধানীতে পাইকারি ও খুচরা বাজার হয়ে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে
৩৬ টাকা হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি করা
হচ্ছে। এই দাম অস্বাভাবিক।
তিনি বলেন, বুধবার থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও বিপণন অধিদপ্তর,
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভোক্তা অধিদপ্তর, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যসহ সমন্বিতভাবে বাজার মনিটরিং করা হবে। এতে আশা করা যায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে
আলুর বাজার দর ৩৬ টাকায় নেমে আসবে।
সফিকুজ্জামান বলেন, হিমাগার থেকে কী পরিমাণ আলু বের হলো তার মেমো থাকতে
হবে। পর্যায়ক্রমে বিক্রেতাদের কাছে সেই মেমো বা পাকা রসিদ রাখতে হবে। কোথাও পাকা রসিদ
না পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আলু উৎপাদনের সরকারি
হিসাবে ভুল আছে। কেননা সরকার বলছে ১ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। আমরা
হিমাগার সমিতি থেকে দেখেছি তা ৮৫ লাখ টনের বেশি হবে না। আলু কম উৎপাদিত হওয়ায় হিমাগারগুলোর
২০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা রয়েছে। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে হিমাগারের আলু বাজারে আসা শুরু
হলেও এ বছর মার্চ মাসেই তা বাজারে ছাড়তে হয়েছে। এতেই বোঝা যায় আলু উৎপাদন কম হয়েছে।
তবে উৎপাদন কম হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা পূরণের আলু বর্তমানে মজুদ আছে।’
অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল
জানান, গত ২২ আগস্ট আলুর খুচরা পর্যায়ে দাম ছিল ৩৪ টাকা। সেই আলু ১১ সেপ্টেম্বর ৫০
টাকা করে বিক্রি হয়েছে। আর পাইকারি পর্যায়ে এটির দাম ৪২ টাকা কেজি। এসব দোকানগুলোতে
মূল্য তালিকা দেওয়া থাকে না। কত টাকায় কেনা হয়েছে সে ধরনের কোনো মেমোও পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাটের ফজল কোল্ড স্টোরের মালিক ও জেলা কোল্ড স্টোর সমিতির পরিচালক ইশতিয়াক হক বলেন, বাজার ব্যবস্থাটি পুরোপুরি আড়তদার ও পাইকারদের কারণে অতিস্থিশীল হয়ে গেছে। হিমাগারগুলোতে রাখা আলু ৬০ শতাংশই বাজারে চলে আসছে। এখনও যে পরিমাণ আলু আছে তাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। মূলত কম আলু বের করে বাজারকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।