আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:১৭ পিএম
আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। প্রবা ফটো
সড়কপথের পর এবার আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্য শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুদেশের মধ্যে ডুয়েলগেজ রেলপথের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুরো রেলপথে কয়েক দফায় চালানো হয়েছে ট্র্যাক কার। আর রেলপথে পণ্য পরিবহন খরচ কম হওয়ায় আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য আরও চাঙ্গা হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি মাসেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের আরও একটি দ্বার খুলতে যাচ্ছে।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়। রেলপথটির ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশ অংশে। কাজটি করছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রকল্পের কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও করোনা মহামারিসহ নানা সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কয়েক দফায় বাড়ানো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। বাংলাদেশ অংশের সাড়ে ৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৪১ কোটি টাকা। রেলপথটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে বাংলাদেশকে। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ অংশের সম্পূর্ণ রেলপথে রেললাইন বসানো শেষ। এ ছাড়া প্রকল্পের ১৬টি সেতু ও কালভার্টের সবকটির কাজই শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। আর ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনের নির্মাণ ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি কলকাতার সঙ্গে আগরতলার দূরত্ব কমাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার। প্রথমে এই রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। পরে শুরু হবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। রেলপথটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া পণ্য আগরতলা থেকে সরবরাহ হয় পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমদানি খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে না। এ ছাড়া একই সংকটে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশ থেকে স্বল্প পরিমাণে পণ্য নিচ্ছেন। তবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি চালু হলে সড়কপথের তুলনায় কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরের অনেক ব্যবসায়ী এই রেলপথে বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আজিজুল হক বলেন, ‘রেলপথে পণ্য পরিবহন অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি চালু হলে উল্লেখযোগ্যভাবে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি। আমদানি খরচ কমে আসবে। তখন ভোক্তা পর্যায়ে কম মূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে। ফলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার শরৎ শর্মা বলেন, ‘যেহেতু রেললাইন বসানোর কাজ শেষ তাই ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। রেলপথটি উদ্বোধনের পর ফিনিশিংয়ের যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো করা হবে। সব মিলিয়ে মাস দেড়েক সময় লাগবে কাজগুলো শেষ করতে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক (বাংলাদেশ অংশ) মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ। কয়েক দফায় ট্র্যাক কার চালিয়ে রেললাইন পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। শিগগিরই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী রেলপথটির উদ্বোধন করবেন। প্রথমে পণ্যবাহী এবং পরে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে।’