প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:৩৩ পিএম
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যারা দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে, তারা ব্যবসায়ী নয়। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো অ্যাডভোকেসি করা হবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘যারা কৃত্রিম সংকট করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পণ্যের সংকট সৃষ্টি ও বাজার অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো।’
ডলার সংকটের কারণে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিন্ডিকেট করা সহজ নয়। চাহিদা ও যোগানের সঙ্গে মিল রেখে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দ্রব্য মূল্য সহনীয় রাখতে হলে আমদানি পণ্যের ওপর কর ছাড় দেওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে দেশীয় উৎপাদন খাত যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্বেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হলেও এর পেছনে সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সরকারি সংস্থাগুলোর অদক্ষতা ও সমন্বয়হীনতা অনেকাংশে দায়ী। বাজার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে না পারা।’
তিনি বলেন, ‘এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যদ্রব্যসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের যে উত্তাপ তা সাধারণ মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। নিম্ন আয়ের মানুষরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে অল্পকিছু পণ্য ন্যায্যমূল্যে কিনতে পারলেও মধ্যবিত্তদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। করোনা পরবর্তীতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে। আবার অন্য দিকে ডলারের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ নিয়ন্ত্রিত আমদানি খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করছে। তবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম, পরিবহন ভাড়া, রাস্তায় পদে পদে চাঁদাবাজী, সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা ও বিপনণ ব্যবস্থার ত্রুটিও এর জন্য দায়ী।’
“বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রধানত দায়ী” শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক ড. শাকিলা জেসমিন, সাংবাদিক আরিফুর রহমান, সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা ও সাংবাদিক মো. শারফুল আলম। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।