প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ২০:৪৪ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। সব খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ যখন দিশেহারা তখন আরও খারাপ খবর আসছে। ২০২৩ সালে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা আর প্রকট হয়ে উঠছে। সতর্কবাণী উচ্চারিত হচ্ছে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে। ২০ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজন হতে পারে জরুরি সহায়তার। ২০২৩ সালে বিশ্বের ৪৫টি দেশে তীব্র খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে জানিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা -এফএও এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি -ডব্লিউএফপি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের রপ্তানি করা লাখ লাখ টন শস্যের ওপর নির্ভরশীল আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অনেক দেশ। এর মধ্যে বিশ্বের চতুর্থ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ হলো ইউক্রেন আর গমের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া। বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৪২ শতাংশ সূর্যমুখী তেল, ভুট্টার ১৬ শতাংশ এবং গমের ৯ শতাংশ উৎপাদন করে ইউক্রেন। চলতি বছরের ফসল তোলার দেশটির খাদ্যশস্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ৫০ লাখ টন। তবে রপ্তানির শীর্ষে থাকা দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকায় ইউক্রেনের বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ। রাশিয়ার কৃষির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পেমেন্ট সিস্টেমে সমস্যা ও ইন্স্যুরেন্স ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মস্কোর ক্রেমলিন। খবর বিবিসি।আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জানিয়েছে, আফ্রিকার প্রয়োজনীয় গমের ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন কোটি টন খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে আফ্রিকায়। যার ফলে মহাদেশজুড়ে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। নাইজেরিয়ায় পাস্তা ও ব্রেডের দাম বেড়েছে অন্তত ৫০ শতাংশ।
এফএও এবং ডব্লিউএফপির যৌথ রিপোর্টে বলা হয়েছে—আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্ক প্রবল। এ ছাড়া এশিয়ার দেশ ইয়েমেন ও আফগানিস্তানেরও একই দশা। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত সারের ২৫ শতাংশই রাশিয়া সরবরাহ করায় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় এখন তা বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাবও পড়ছে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে। এ কারণে আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো দেশ নয়; খাদ্যসংকটে পড়ার তীব্র শঙ্কা রয়েছে পুরো বিশ্বের। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়েছে গম ও ভুট্টা সরবরাহে শীর্ষে থাকা দেশ দুটির শস্য উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামো। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী পড়তে শুরু করছে।
বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহকে দায়ী করে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এবং সারের সংকটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। পৃথিবীর ৪৫টি দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্ভিক্ষ। এটা এমন এক ধরনের সংকট হতে যাচ্ছে, যা আমরা জীবদ্দশায় দেখিনি।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির রিপোর্ট বলছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে পৃথিবীব্যাপী ৩৪ দশমিক ৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা তীব্র সংকটে পড়েছে। এখন বিশ্বজুড়ে প্রতি রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায় ৮২ দশমিক ৮ কোটি মানুষকে।
জীবনধারণ ব্যয়ের চাপে দেশগুলোর আন্তর্জাতিক রিজার্ভ হ্রাস পাবে বলে ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড-আইএমএফের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ খরচ লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগামী বছর খাদ্য এবং সার আমদানিতে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে। এদিকে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তাদের রিপোর্টে বলেছে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সারের ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আফ্রিকা মহাদেশে খাদ্য উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যাবে।
দুর্ভিক্ষ ঘোষণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ২০২২ সালের কয়েকটি ঘটনায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
প্রবা/রনি/এমআই