× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চসিকের বারইপাড়া খাল

৯ বছরে খনন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে চারগুণ

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:২৪ পিএম

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:০৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর বদ্দারহাট এলাকার বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে ওয়াইজেরপাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে বারইপাড়া খাল। এই খালটির খনন কাজ শেষ না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রবা ফটো

চট্টগ্রাম নগরীর বদ্দারহাট এলাকার বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে ওয়াইজেরপাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে বারইপাড়া খাল। এই খালটির খনন কাজ শেষ না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রবা ফটো

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ৯ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন একনেক সভায় ২ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন প্রকল্পের অনুমোদন পায়। সময়ের ব্যবধানে ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প এখন চারগুণ বেড়ে ঠেকেছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। নানা জটিলতায় ৯ বছরে প্রকল্পটির তিনবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও এর অগ্রগতি এখনও মাত্র ৫৮ শতাংশ।

স্থানীয়রা বলছেন, এই খালের খননকাজ দ্রুত শেষ না হওয়ায় মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কোনোভাবেই হচ্ছে না। 

মূলত বারইপাড়া খাল খননে বিলম্ব হওয়ায় এই বহদ্দার বাড়িসহ বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার ও বাকলিয়ার পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণেই সিটি করপোরেশন এই প্রকল্প হাতে নেয়। 

মহানগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে নূরনগর হাউজিং, ওয়াইজের পাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে বারইপাড়া খাল। এই খালের দুই পাড়ে বহু বসতি রয়েছে। এর মধ্যে বহদ্দারহাট এলাকায় বারইপাড়া খাল শুরুর কিছুদূর এগিয়েই খালের বাম পাশে ২৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ‘বহদ্দার বাড়ি’। যেখানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বসবাস করেন। চলতি বর্ষায় অন্তত তিন থেকে চারবার বহদ্দার বাড়ির সড়ক ও অলিগলি এবং নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম বেকায়দায় পড়েন স্বয়ং চসিক মেয়র। 

গত মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকার বহদ্দারহাট, বাদুরতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালটির দুই পাড়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। কিছু কিছু অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ চলছে। বহদ্দারহাট থেকে বারইপাড়া সেতুর আগ পর্যন্ত এক পাশের সিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে খালের পাড় লাগোয়া চারতলা একটি বাড়ির কারণে সড়ক নির্মাণ আর এগোয়নি। এ ছাড়া খালটি অপরিষ্কার এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় বহদ্দারহাট মোড়ের পাশে খালে অনেকটা চর জেগে ওঠে। এভাবে সীমিত পরিসরে পানির প্রবাহ চলছে। 

বহদ্দারবাড়ির গেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মোটর দিয়ে গলি থেকে পানি তুলে নালায় ফেলা হচ্ছে। সেই নালার সঙ্গেই বারইপাড়া খালের সংযোগ। সেখানে এসব পানি নামছে। 

বহদ্দারবাড়ির গেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নুরুল হক বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই বহদ্দারবাড়ির সড়কে পানি উঠে যায়। আর বেশি বৃষ্টি হলে নিচতলার বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এমনকি মেয়রের বাড়িতেও পানি ঢুকে যায়। এ সময় চলাচল করতে বেশি কষ্ট হয়। পরে বৃষ্টি কমলে পার্শ্ববর্তী বারইপাড়া খাল হয়ে পানি নেমে যায়। এরপরও সড়ক ও উঠানে কিছু পানি থেকে যায়। মোটর চালু করে পাইপের মাধ্যমে এসব পানি কমানো হয়।’ 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তমিজ উদ্দিন নামে বাদুরতলার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অনেকদিন ধরে শুনতেছি খালটি খনন করা হবে। কিন্তু কী খনন করবে? পরিষ্কারও তো করে না। তাই বৃষ্টি হলেই খাল থেকে এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। খালটি সঠিকভাবে খনন করলে কখনও এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৪ সালের ২৪ জুন একনেক সভায় প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন পায়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পরে প্রথম দফায় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে সরকারি বরাদ্দ ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তখন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি চসিক। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ দুটোই বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়। মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

বারইপাড়া খাল খনন প্রসঙ্গে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই বছরে এই বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রকৌশলীদের বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন করতেই হবে। তাই দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রকল্পটির জটিলতা কাটাতে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে একনেকে তুলেছি প্রকল্পটি। জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিছু সমস্যা ছিল, তা কাটিয়ে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। আশা করি আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।’ 

মেয়র আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। মহানগরীর বহদ্দারহাট, শুলকবহর, নাসিরাবাদ, বারইপাড়া, বাদুরতলা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও চাক্তাই এলাকার ১০ লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।

এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বরাদ্দ সংকট, করোনা ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে প্রকল্পটি থমকে ছিল। গত দুই মাস বৃষ্টির কারণে তেমন কাজ করা যায়নি। তবে এখন প্রকল্পটি পুরোদমে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২৫ একরের মধ্যে ২১ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে চসিককে বুঝিয়ে দিয়েছে। এসব জায়গায় এখন প্রায় দেড় কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণেরও কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৫৮ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর বারইপাড়া খালের প্রস্থ হবে ৬৫ ফুট। প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাড়ে ২০ ফুট করে দুটি রাস্তা হবে এবং ছয় ফুট প্রস্থের দুটি করে ওয়াকওয়ে হবে। এ ছাড়া খালের দুই পাড়ে সাড়ে ৫ হাজার মিটার রিটেইনিং ওয়াল, নয়টি আরসিসি সেতু, ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮১ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন এবং সাড়ে ৫ হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা