কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:৪২ পিএম
কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমানের জ্বালানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবা ফটো
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই রিফুয়েলিং সিস্টেম চালু করে নতুন মাইল ফলক অর্জন করল কক্সবাজার বিমানবন্দর।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা একটি বিমানে জ্বালানি তেল সরবরাহের মাধ্যমে শুরু হলো এ যাত্রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীতে রিফুয়েলিংয়ের হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে।
এদিকে দুপুর দেড়টার দিকে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে উড়োজাহাজে রিফুয়েলিং কার্যক্রম। পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে ১ হাজার ২০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহের মাধ্যমে রিফুয়েলিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনী দিন রবিবার কক্সবাজার বিমান বন্দরে সিলেট ও ঢাকাগামী ৩টি ফ্লাইটে ৬ হাজার ৪০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এখন প্রতিদিনই কক্সবাজার বিমান বন্দরে এ কার্যক্রম চালু থাকবে।
এদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আগামীতে রিফুয়েলিংয়ের হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার হচ্ছে পর্যটনের হাব। এ পর্যটনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগ এটি সারা বিশ্বে স্বীকৃত। সে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করেছে। উন্নীতকরণের কাজও চলমান রয়েছে। আর আগামী বড় বড় বিমান আসবে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। যে কারণে এখানকার চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানির চাহিদা। এ কারণেই বিমানের রিফুয়েলিংয়ের একটি নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, ‘পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড বহু বছর ধরে রিফুয়েলিং কার্যক্রম জড়িত রয়েছে। তাদের দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তাই কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের রিফুয়েলিং ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রমের দায়িত্বটা তাদের দেওয়া হয়েছে। সে দায়িত্বটা রবিবার পূর্ণাঙ্গভাবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ‘কক্সবাজারের অর্থনৈতিক যে হাব বা বলতে পারি পর্যটনের হাব অথবা উন্নয়নের যে যাত্রাটা আগামীতে হতে যাচ্ছে সেটাকে কাভারেজ করতে গেলে এটা খুবই প্রয়োজন।’
এ বি এম আজাদ বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রিফুয়েলিং হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যে বা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে যত প্লেন যাবে তাদের রিফুয়েলিংয়ের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হবে কক্সবাজার। কারণ একেক সময় পৃথিবীর একেকটি জায়গা উঠে আসে। এক সময় হংকং তারপর সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এখন দুবাই। কিন্তু বলতে পারি যে, ভবিষ্যতে কক্সবাজারই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কেননা খুব স্বল্প সময়ে এখানে বিমান এসে নামতে, রিফুয়েলিং করতে এবং যেতে পারবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে কক্সবাজার বিমান বন্দরে রিফুয়েলিং সিস্টেম চালু হওয়ায় দারুণ খুশি বেসরকারি বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সময় ও অর্থ দুটির অপচয় রোধ হবে।
বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা’র কক্সবাজারের সহকারী স্টেশন ম্যানেজার শহিদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিমানে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি নিলে অনেক সময় সেটা সমস্যা হয়ে যায়। কিন্তু এখন ঢাকা থেকে কম জ্বালানি নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে রিফুয়েলিং করলে অনেক সুবিধা হবে। আবার অনেক সময় বৈরী আবহাওয়া থাকলে উড়োজাহাজে জ্বালানির সংকট হয়। তাই এখানে রিফুয়েলিংয়ে কার্যক্রম চালু হওয়ায় জ্বালানির সমস্যাটা দূর হবে।’
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার কক্সবাজারের স্টেশন ইনচার্জ মুসা আহমেদ বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ রিফুয়েলিং কার্যক্রম চালু হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটির অপচয় রোধ হবে। একই সঙ্গে যাত্রী সেবার মানও বাড়বে।’
পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে বর্তমানে ৩টি ট্যাংকে জ্বালানি তেলের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার লিটার। এটি আগামীতে পর্যায়ক্রমে ৩ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।