প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:৫৪ পিএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:০০ পিএম
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেছে। এগুলো তো ব্যাগে করে নিয়ে যায়নি। একটি মাধ্যমে গেছে। কোথায় গেছে তারও রেকর্ড আছে সংস্থাগুলোর কাছে। চাইলেই এটি বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মির্ধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘দেশের ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেছে। এগুলো তো ব্যাগে করে নিয়ে যায়নি। কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ে গেছে। কোনো অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। বেনামে গেলেও অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যাংকগুলোর কাছে আছে। ১০ লাখ টাকার ওপর লেনদেন হলে রেকর্ড থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে। তারা চাইলেই টাকা কোথায় গেছে- এটা জানা সম্ভব। কারণ ব্যাংকিং সিস্টেমে সব তথ্যই রেকর্ড থাকে। টাকা কোথায় গেছে, কার কাছে সবই জানা যায়।’
হলমার্কের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সমালোচনা করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘হলমার্কের কেলেঙ্কারি হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জেলগেটে গিয়ে। এটা তো অনেক পুরোনো একটি সিস্টেম। সে কোথায় টাকা নিয়ে গেছে এটা জেল গেটে গিয়ে কেন জিজ্ঞাসা করতে হবে। তাহলে ডিজিটাল সিস্টেম করে লাভ কী? ব্যাংক চাইলে তার লেনদেনের সব তথ্যই বের করতে পারবে, সে কোন কোন জায়গায় টাকা পাঠিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের তথ্য আমরা শুনি। যেখানে আমরা শুনি-জানি সেখানে ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলো অবশ্যই জানে কিন্তু বলে না।’
অর্থ পাচার অর্থনীতির জন্য ক্ষতি জানিয়ে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, ‘যেকোনোভাবে অর্থ পাচার হোক না কেন তা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতি অর্থাৎ অর্থ পাচার হলে ক্ষতি হবে। আগে শুধু আমদানি-রপ্তানিতে দাম কমবেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার হতো। এখন অর্থ পাচারের অনেকগুলো মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। যে যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পায় সে সেভাবেই পাচার করে। অর্থ পাচার বাড়লে রেমিট্যান্স কমে যাবে।’