প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:৪১ পিএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:৪২ পিএম
ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক এক সেমিনার। ছবি : সংগৃহীত
টেকসই নগরায়ণে সুশাসন ও পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনরা। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
তারা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই নগারয়ণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নগরায়ণ এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে আমাদের জিডিপির ৬৫ শতাংশ আসছে শহরাঞ্চল থেকে। ঢাকা কেন্দ্রিক নগরায়ণের জন্য আমরা যানজট, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ প্রভৃতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। সেই সঙ্গে আমাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এ অবস্থায় ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনও বিকল্প নেই। পাশাপাশি নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা নীতি গ্রহণ করা সময়ের দাবি।’
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সরকার ঢাকার বাইরেও অবকাঠমো খাতে উন্নয়ন করেছে। এর সুফল দেশবাসী শিগগিরই পাবেন।’
রাজধানীর উপশহরগুলোকে আরও উপযোগী করার জন্য সরকার নিরসলভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের অবকাঠামোর সম্প্রসারণ আরও ১০-১৫ বছর চলমান থাকবে। এতে যানজট কমবে এবং নগরবাসী উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা উপভোগ করবেন।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৩ শতাংশ লোক নগরে বাস করেন। ঢাকা মহানগরীতে প্রতি বছর নতুন করে ৫ লাখ লোক যোগ হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিনিয়ত গৃহহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বর্জ্য বৃদ্ধি, পানি ও বায়ু দূষণ, বৃক্ষ নিধন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, যানজট ও স্বাস্থ্য সংকটের শিকার হচ্ছি আমরা। রাজধানীতে বিদ্যমান সবুজের পরিমাণ মাত্র আট শতাংশ, যা প্রতিনিয়ত কমছে। সবুজ সুরক্ষায় আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’