× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নির্দেশ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ২১:১৬ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

পণ্যের অতিমূল্যায়ন বা ওভার ইনভয়েসিং কমলেও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে আন্ডার ইনভয়েসিং বা রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো। ফলে বিপুল অর্থ পাচার হচ্ছে বিদেশে। পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ব্যাপক সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও কমছে না হুন্ডি। তাই এ মুহূর্তে আন্ডার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সভায় এ নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের জানান, ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। সে বিষয়টা গুরুত্বসহকারে ব্যাংকগুলোকে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্যও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশই এখন খেলাপি। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা ব্যাংকঋণের একক সুদের সীমা উঠিয়ে দিয়েছি এবং সেটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সব ব্যাংক। বৈশ্বিক সংকট এখনও বিদ্যমান থাকায় দেশের মূল্যস্ফীতিতে একটি চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট। সব মিলিয়ে আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’ 

এক প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র বলেন, ‘যেসব ব্যাংক বাফেদা নির্ধারিত রেটের বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের আমরা অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। নিশ্চয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ ফেস করছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতিটা কিছুটা কমে এলেও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টস ব্যালেন্স এখনও ঋণাত্মক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দরে ডলার সংগ্রহ প্রতিরোধ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ভূমিকা এবং ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।’

এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, তারল্য সংকট রয়েছে। তবে কিছু কিছু ব্যাংকে এই সমস্যা থাকলেও সব ব্যাংকে সংকট নেই। ব্যাংকগুলোকে সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, দেশের বেসরকারি খাতের ৯ ব্যাংকের পর এবার রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক মিলে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী চারটি ব্যাংক মিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইনে ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন করবে।

সূত্র জানায়, আমরা চারটি ব্যাংক মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডিজিটাল ব্যাংক গঠন করব। ইতোমধ্যে পর্ষদ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (আজ) আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব পোর্টালে আবেদন করব। 

এর আগে দেশের বেসরকারি খাতের ৯টি ব্যাংক মিলে ডিজিটাল ব্যাংক করার উদ্যোগ নিয়েছে। একসঙ্গে ৯টি ব্যাংক মিলে এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এখন পর্যন্ত এটিই প্রথম। ডিজিটাল ব্যাংক করার জন্য একসঙ্গে জোট বা কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে সেগুলো হচ্ছে- সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল), ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসিবি) ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংক গঠনে ৯টি ব্যাংকের প্রতিটি প্রায় ১৪ কোটি টাকা করে মোট ১২৬ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেবে।

সম্প্রতি দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের পর দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২১ জুন ডিজিটাল ব্যাংক গঠনে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে সেই আবেদনের সময় বাড়িয়ে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা