× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঋণ অবলোপন যেন অপ্রতিরোধ্য

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১১ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

প্রচলিত ঋণের খাতা থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা মুছে ফেলেছে ব্যাংক। মামলা করে, আমানতের সম্পত্তি নিলামে উঠিয়ে এবং সমঝোতাসহ নানা প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকগুলো এই ঋণ মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। তবে বহু ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে রয়েছে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২২ সাল শেষে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ অবলোপনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। ২০২১ সালে যার পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৪৯৮ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ অবলোপন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।

তথ্যমতে, ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অবলোপন করা মোট ঋণের মধ্যে বিভিন্ন প্রচেষ্টায় আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। বাকি টাকা পড়ে আছে ব্যালেন্স শিটের বাইরে পুরোনো খাতার কোনায়। সেগুলো কবে নাগাদ আদায় হবে বা আদৌ আদায় করা সম্ভব কি না, তা অনিশ্চিত। 

মোট অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায়ের পরিমাণ বাদ দিলে ঋণ অবলোপনের স্থিতি দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অবলোপন হয়েছে ১৬ হাজার ৪৪৯ কোটি, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ হাজার ৫৬৮ কোটি, বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ হাজার ১২৫ কোটি এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অবলোপন করা হয়েছে ৩৫১ কোটি টাকা। 

গত দুই বছর বিশ্বব্যাপী আঘাত হানা মহামারি করোনার কারণে ঋণ আদায়ে বিভিন্নভাবে ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সেসব ছাড় কোনো কাজে আসেনি বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। বিভিন্ন ছাড় দিয়েও যখন খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না, তখন পুরোনো কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ব্যাংকগুলো। ঋণ অবলোপন করে খেলাপি কম দেখানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা যায়। আর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ কৌশলের নাম ঋণ অবলোপন। সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ অবলোপন বাড়িয়েছে অনেক ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মমতে, ব্যাংকের মন্দমানের খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন আদায় না হলে তা ব্যাংকের মূল ব্যালেন্স শিট থেকে আলাদা করে অন্য একটি লেজার বুকে সংরক্ষণ করা হয়। ব্যাংকিং পরিভাষায় যা ঋণ অবলোপন বা রাইট অফ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঋণ দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে আজ এই অবস্থা। ওপর মহলের চাপে ঋণ দিয়ে এখন সেই টাকা আর আদায় করতে পারছে না ব্যাংক। এখন ব্যাংক খাত বাঁচাতে হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় ঋণখেলাপি, পুনঃতফসিল ও অবলোপনের মতো উচ্চ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বাড়তেই থাকবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলো সর্বশেষ ২০২২ সালে ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। যা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, আবার ব্যাংকগুলো নিজেরাও পুনঃতফসিল করেছে। ফলে এসব ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। 

এরপরও গত বছরের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের কাছাকাছি হতো। এদিকে গত বছরের শেষে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা; যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফলে খেলাপি ঋণের চেয়ে পুনঃতফসিল করা ঋণ এখন বেশি।

সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২০২২ সালে। এ বছরে পুনঃতফসিল করা হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা; যা ২০২১ সালে ছিল ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর ২০২০ সালে ছিল ১৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণের ৭১ শতাংশ বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর, ২৪ শতাংশ সরকারি ব্যাংকগুলোর, বাকি ৫ শতাংশ বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা