জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১০:৫২ এএম
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩ ১৪:২১ পিএম
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের কোকতারা গ্রামের হেদায়েত হোসেন শিপলুর ড্রাগন বাগান। প্রবা ফটো
মাল্টা, পেয়ারা, বারোমাসি আম, লেবু, ররই, কলাসহ নানা প্রজাতির ফল একই বাগানে। এসবের মাঝে ড্রাগন ফল যেন অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের খুঁটিগুলো পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। ঝুলছে পাঁচ থেকে সাতটি করে কাঁচা, পাকা ও আধা পাকা ড্রাগন ফল। বাগান যেন এক সবুজের সমারোহ।
মিশ্র ফলের এমন বাগান করে আয়ের পথ তৈরি করেছেন জয়পুরহাটের হেদায়েত হোসেন শিপলু। শিপলুর বাড়ি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের কোকতারা গ্রামে। ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিও করেন। পাশাপাশি তিনি গ্রামে কৃষি খামার করার উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেছেন সমন্বিত কৃষি খামার।
কথা হয় বাগানের শ্রমিক জাপানুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ড্রাগনের ছোট ডিপি কেটে নিয়ে চারা করি। সেগুলো একটু বড় হলে পূর্ণাঙ্গভাবে রোপণ করি। পরিচর্যায় গাছ বড় হয় এবং ফল দেয়। ড্রাগনে রাতে ফুল ফোটে। সেটি প্রত্যেক দিন নয়, সময়ে সময়ে। ওই সময় ফুলে পরাগায়ন করা হয়। এতে ফল বেশি পাওয়া যায়। তা ছাড়া পোকামাকড় ও পাখির উপদ্রব থেকে ফলকে সুরক্ষিত রাখতে ড্রাগন ফল পলিব্যাগের ভেতরে রাখি।
বাগান পরিচালনা করেন হেদায়েত হোসেন শিপলুর ভগ্নিপতি তাশকেরুল ইসলাম তুষার ও শ্যালক তুহিন ইসলাম। কথা হয় তাশকেরুল ইসলাম তুষারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই সমন্বিত খামার ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা হয়েছে। এখন অনেক প্রজাতির ফল চাষ করা হয়। ড্রাগনের দিক দিয়ে আমরা সফল। অনেকেই মনে করেন ড্রাগন হবে কি হবে না, এটা বিদেশি ফল। কিন্তু আমরা ড্রাগন চাষে সফলতা পেয়েছি। এবার ফলন ভালো হয়েছে, খেতেও সুস্বাদু।
চাকরির পাশাপাশি কৃষি ফার্মটি করেছেন শিপলু। নাম দিয়েছেন মায়ের দোয়া এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজ। তিনি জানান, করোনার পর তার মাথায় আসে, চাকরির পাশাপাশি গ্রামে কৃষি নিয়ে যদি কিছু একটা করতে পারেন তাহলে অনেক ভালো হতো। কারণ চাকরি একসময় শেষ হবে। কিন্তু কৃষি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রয়োজন পড়বে। এই চিন্তা থেকে ২০২১ সালে পরিচিত আমেরিকান এক স্যারের (মোহাম্মদ জুলফিকার) অনুপ্রেরণায় এই কৃষি খামার তৈরি করেন। বর্তমানে সাড়ে ১২ একর জমিজুড়ে সমন্বিত কৃষি খামার তৈরি করেছেন। এ ছাড়া হাঁস, গাড়ল, মাছও আছে। খামারটি করতে প্রথম অবস্থায় ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। কিছু টাকা নিজে জমিয়েছিলেন। বাকি বেশিরভাগ টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বাগান শুরুর এক বছর পর প্রায় সাত লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। এর বেশিরভাগ টাকা আসে ড্রাগন থেকে। বাগানে সাত প্রজাতির ড্রাগন আছে। এর মধ্যে ভিয়েতনামি রেড, বারী ওয়ান ড্রাগন, ভিয়েতনামি হলুদ, ভিয়েতনামি সাদা, ভিয়েতনামি গোলাপি ও আমেরিকান হলুদ ড্রাগন আছে। এবার ড্রাগনের ভালো ফলন হয়েছে। বছরের এই সাত-আট মাসে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। বাকি সময়ে আরও ১০ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করি।
হেদায়েত হোসেন শিপলু আরও বলেন, এই খামারে ২০ জনের মতো কর্মচারী কাজ করেন। এতে বেকার যুবকরা সময় দিতে পারছেন। তাদের একটা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এটি দেখে বেকার তরুণরাও কৃষি খামার করতে পারে। এতে তরুণরা সফলতা পাবে বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, হেদায়েত হোসেন শিপলুকে ড্রাগন চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তা ছাড়া তার বাগানে মিশ্র ফলের চাষ আছে। উপজেলায় তার বাগানটি সবচেয়ে বড়। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে বাগানটি করেছেন। এ ছাড়া কোনো তরুণ উদ্যোক্তা যদি নতুন বাগান করে তাহলে প্রথম থেকে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।