× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফের ব্যয় বাড়ছে এসপিএম প্রকল্পে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ২১:১৮ পিএম

এসপিএম প্রকল্প। ছবি : সংগৃহীত

এসপিএম প্রকল্প। ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন শীর্ষক প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে চলতি বছরের জুনে। তবে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে এত টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় সংশোধনীতে আলোচ্য প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এবং ব্যয় নির্ধারণ করা ছিল ৭ হাজার ১২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। জুন পর্যন্ত ভৌত কাজের অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ। খরচ হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আর্থিক অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবার চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। চতুর্থ সংশোধনীতে মোট অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চতুর্থ সংশোধনী অনুমোদন পেলে এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৮ হাজার ২২২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর তিন বছরের প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়াবে ৯ বছরে।

গত মঙ্গলবার এসপিএম উইথ ডাবল পাইপলাইন শীর্ষক প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির সভায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ। প্রশ্ন তুলে এসপিএম প্রকল্পে ৯৭ শতাংশ কাজ হওয়ার পরেও নতুন করে আরও এক বছর এবং ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দিয়ে ব্যয় যৌক্তিকীকরণ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) আবদুল বাকী বলেন, পিইসি সভায় অনেক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাদের কিছু ক্লেইম ছিল যেগুলোর কিছু সেটেল করেছে, বাকিগুলোর কী অবস্থা সেগুলোর কাগজপত্র সব জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যয় যৌক্তিকীকরণ করতে বলা হয়েছে। কাগজপত্রসহ ব্যয় যৌক্তিকীকরণ করে পুনরায় ডিপিপি সংশোধন করে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাগজপত্র এলে তখন হয়তো আরও বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি বলেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ডলার রেট ওঠানামার কারণেই বড় অঙ্কের টাকা বাড়ছে। আর পরামর্শকদের কিছু ক্লেইম ছিল সেগুলো সেটেল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পেমেন্ট হয়েছে ৮৬ শতাংশ মতো। কাগজপত্র এলে তখন হয়তো আরও বিস্তারিত বলা যাবে।

চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, ইপিসি ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলার অনুযায়ী আয়কর হিসাব করা এবং প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার কারণে ব্যয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, শুধু ডলার রেট বাড়ার কারণে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম, নির্মাণ ও পূর্ত এবং পরামর্শ সেবা খাতে মূল ব্যয়ের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে ৫৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কমিশনিংসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। এ ছাড়া বাস্তবায়ন কাজ শেষে এমপ্লয়ারের পক্ষ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া, ঠিকাদারের বিল পরিশোধসহ এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয় শেষ করতে বেশ কিছু সময় প্রয়োজন হবে। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রয়োজন হচ্ছে।

এসপিএমের প্রজেক্ট ম্যানেজার মনজেদ আলী শান্ত বলেন, ডলার রেট পরিবর্তন এবং কমিশনিংসহ কিছু কাজ বাকি থাকায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাস সহজীকরণ এবং দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণে চীনের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথমে বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয় নভেম্বর-২০১৫ হতে ডিসেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত। প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরশেনের (বিপিসি) আওতাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মাণাধীন ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইনের কমিশনিং আগামী আগস্টের শেষ দিকে শুরু হবে। এরপর উদ্বোধন করা হবে প্রকল্পটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিশনিং শেষে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরে এসপিএম প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা