× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেসিক ব্যাংকে রাখা বন্ধকি সম্পত্তিতে রমরমা ব্যবসা

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১০:১৮ এএম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৩:২৪ পিএম

বেসিক ব্যাংক। ছবি : সংগৃহীত

বেসিক ব্যাংক। ছবি : সংগৃহীত

ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমিতে ব্যাংকের নয়, ঝুলছে ব্যক্তিমালিকদের সাইনবোর্ড। বেসিক ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা সত্ত্বেও ৩৪ কোটি টাকার জমি প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন একজন গ্রাহক। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে এ কাজের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করতে নারাজ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

১২ বছর পর ওই ঋণের সুদ মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসিক ব্যাংক। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচিত বেসিক ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।

ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার ঋণখেলাপি রয়েল ক্ল্যাসিক করপোরেশন লিমিটেড। ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ২০১১ সালে ৫ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ মঞ্জুর করা হয়। চলতি বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত সেই ঋণ গিয়ে সুদে-আসলে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকাতে পৌঁছেছে। ঋণ নেওয়ার সময় ঢাকার উত্তরা বাউনিয়া মৌজায় অবস্থিত মোট ২০০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি বন্ধক হিসেবে রাখা হয়। যার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। মূল্য নির্ধারণ করেছিল জরিপকারী প্রতিষ্ঠান রূপসা সার্ভেয়ার। এতদিন পর এসে জমির সঠিকতা বা হদিস পাচ্ছে না বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা।

পরে প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে গত ২৫ মে শাখার কর্মকর্তারা বন্ধকি সম্পত্তি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী হ্যাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধকি জমির বেশিরভাগ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তারা নিজ নামে সিটি জরিপ অনুযায়ী নামজারির মাধ্যমে দখলে আছে এবং তাদের জায়গাসমূহের সীমানা চিহ্নিত করে তাতে নিজেদের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। পরে ওই গ্রাহকের নামে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে বেসিক ব্যাংক। 

সূত্র জানায়, রয়েল ক্ল্যাসিক করপোরেশন লিমিটেড হ্যাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের কাছে জমিটা বিক্রি করে দিয়েছে। পরে জমিটি হ্যাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট একাধিক ব্যক্তির কাছে প্লট আকারে বিক্রি করেছে।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রয়েল ক্ল্যাসিক করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক এম এ আউয়াল খেলাপি হয়ে পড়া ঋণগুলো পরিশোধের জন্য সময় চেয়েছেন। পাশাপাশি এককালীন এক্সিট পলিসি (২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃ তফসিল) অনুসারে সব সুদ মওকুফের আবেদন জানিয়েছেন। এতে রাজি হয়েছে ব্যাংক। রয়েল ক্ল্যাসিক করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট নিয়ে এক্সিট পলিসির আওতায় ঋণ সমন্বয়ের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই বৈঠকে।

আরও পড়ুন: কৃষিতে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে আমরা যখন দেখলাম তারা এ রকম কাজ করেছে। আমরা সব ব্যক্তিমালিকদের নোটিস দিয়েছি। এই জমির মালিকানা পেতে হলে প্রয়োজনে ব্যক্তিমালিকদের ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে হবে। এ রকম ঘটনা ব্যাংকে আগেও একাধিকবার ঘটেছে। আমরা টাকা আদায় করেছি। যারা না দেখে না বুঝে জমি কিনেছে এটা তাদের ভুল।’

একই সভায় উঠে এসেছে আরও একটি ভয়াবহ তথ্য। ২১৪টি ঋণ হিসাব মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা করেনি বেসিক ব্যাংক। আলোচনা শেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের অথবা ঋণ আদায়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কমিটি। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১০০টি হিসাবধারীর সঙ্গে সমঝোতামূলক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ ঋণ পরিশোধ করেছে আবার কেউ ঋণ ফেরতের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। কিন্তু বাকি ১১৪টি হিসাবধারী গ্রাহকের কোনো খবর নেই।

এ বিষয়ে এমডি আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণগুলো আদায়ের চেষ্টায় ছিলাম। আমরা সফলও হয়েছি। যেই ২১৪টি হিসাবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি তাদের মধ্যে ১২ জন ইতোমধ্যেই টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। ১৬ জন পুনঃ তফসিল করছে। এভাবে সব সমস্যাই সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা। আশা করি দ্রুতই ভালো রেজাল্ট পাব।’

উল্লেখ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে অর্থঋণ আদালতে ৭২ হাজার ১৮৯টি বিচারাধীন মামলার বিপরীতে আটকে আছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। গত বছর বিচারাধীন এসব মামলায় আদায় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। ২০২১ সাল শেষে অর্থঋণ আদালতে ৬৮ হাজার ২৭১টি বিচারাধীন মামলার বিপরীতে আটকে ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থঋণ আদালতে দিনের পর দিন মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মোটেও গতি নেই আদায়ে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৫৯টি অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে ৫৮টিতেই অভিযুক্ত হয়েছেন বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। তিনি ছাড়াও মালয়েশিয়ায় পলাতক ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ মোট ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে দুদক। এর মধ্যে ব্যাংকের কর্মকর্তা রয়েছেন ৪৬ জন। অনিয়মের বেশিরভাগ হয়েছিল ব্যাংকটির গুলশান, শান্তিনগর, দিলকুশা ও প্রধান শাখার মাধ্যমে। দুদকের অভিযোগপত্রে প্রধান কার্যালয়ের বাইরে এই চার শাখার কর্মকর্তাদের নামই এসেছে বেশি।

বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ঠেকেছে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। মূলধন ঘাটতি ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। মুনাফা তো দূরে থাক, প্রতিবছর বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে ব্যাংকটি। ২০২২ সালে ১০৯ কোটি এবং তার আগের বছর লোকসান ছিল ৩৮৬ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা