× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকও ডুবছে খেলাপি ঋণে

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৩ ০৮:৫২ এএম

চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকও ডুবছে খেলাপি ঋণে

দেশের ব্যাংক খাতের উন্নতিতে বড় বাধা হয়ে উঠেছে খেলাপি ঋণ। দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ২০১৩ সালে অনুমতি পাওয়া চতুর্থ প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকও রক্ষা পায়নি এই খেলাপি ঋণের কবল থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত মার্চ শেষে এই ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাঁচ বছর আগে তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৪০ কোটি। অর্থাৎ পাঁচ বছরে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। 

৯টি ব্যাংকের মধ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো হলোÑ মধুমতি, মিডল্যান্ড, ইউনিয়ন, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স, মেঘনা ও পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক)। আর প্রবাসীদের মালিকানায় অনুমোদন পায় এনআরবি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী (সাবেক এনআরবি গ্লোবাল) ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে পদ্মা ব্যাংক। এ ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি খাতে বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ সালে। ওই বছর ১২ এপ্রিল আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী এক দশকে দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ায় আটটিতে। যেগুলোকে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০০ সালে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোকে দ্বিতীয় এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কে ব্যাংকের তৃতীয় প্রজন্ম ধরা হয়। এই সময়ে ডাচ্-বাংলা, ইস্টার্ন, এক্সিম, আল-আরাফাহ, সাউথইস্ট, প্রাইম, প্রিমিয়ারসহ মোট ২২টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে ২০১২ থেকে ১৩ সালের মধ্যে ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়। এই ব্যাংকগুলোকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসা শুরুর ৯ বছর পার হলেও ব্যাংকসেবায় বিশেষ কোনো নতুনত্ব আনতে পারেনি চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো। গতানুগতিক ধারায় কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দুর্নীতি আর বিভিন্ন ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলো। নানা অব্যবস্থাপনায় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে নিজেদের ইচ্ছামতো চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। ঋণের নামে চলছে লুটপাট। দিন দিন বাড়ছে খেলাপি ঋণের বোঝা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ব্যাংকপাড়ায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০১৩ সালে ৯টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে দেশীয় উদ্যোক্তা মালিকানায় ছয়টি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানায় রয়েছে তিনটি ব্যাংক। এসব ব্যাংক নিয়েই ওঠে যত অভিযোগ। কোথাও কোথাও আগ্রাসী বিনিয়োগ, পর্ষদে প্রভাব খাটানো কিংবা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, পাঁচ বছরে এসব ব্যাংকে এসেছে অনেক পরিবর্তন। গত ২০১৮ সালে চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ছিল ৩ হাজার ৯৪০ কোটি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০২২ সালে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায়। হিসাব বলছে, চতুর্থ প্রজন্মের এসব ব্যাংকের মধ্যে কয়েকটির ঋণ বিতরণের চেয়ে খেলাপি ঋণের প্রবৃদ্ধির হার বেশি।

সবশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে এই ৯টি ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা। তথ্যমতে, পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। এটি তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

একই সময়ে (মার্চ প্রান্তিক শেষে) ইউনিয়ন ব্যাংক বিতরণ করে ২২ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৫২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মেঘনা ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণ ৩ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ৩৫৫ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মিডল্যান্ড ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, এর মধ্যে খেলাপি ১৬৯ কোটি টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সাউথ বাংলা ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, এর মধ্যে খেলাপি ৩৯৭ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া এনআরবি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৩০৭ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৬৭২ কোটি টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (গ্লোবাল ইসলামী) বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার ৮২ কোটি টাকা, এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ৩৫৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত মার্চ পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। শুধু তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বেড়েছে ১০ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। আর বিগত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুনত্বের নামে বাজারে আসা ব্যাংকগুলোতে আসলে কোনো নতুনত্ব নেই। যেসব এলাকাতে ধনাঢ্য মানুষ বেশি, সেসব এলাকাতে শাখা খুলেছে তারা। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকাতে তাদের শাখা দেওয়ার কথা ছিল। অন্যান্য ব্যাংকের মতো শিল্প গ্রুপগুলোর পেছনে দৌড়ায় ওরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ব্যাংক ঋণও দেয় অন্যান্য কনভেনশনাল ব্যাংকের মতোই। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে বেশি বেশি ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া উচিত ছিল। সরকারি বড় বড় সংস্থার পেছনে এফডিআর পাওয়ার জন্য ঘুরতে থাকা ইনোভেটিভ (উদ্ভাবনী) ব্যাংকিংয়ের পরিচয় বহন করে না। কিছু কিছু ব্যাংক আছে, যাদের পরিচালকদের সঙ্গে উচ্চমহলের বিশেষ কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ আছে। তাদের ইচ্ছামতো এসব ব্যাংক পরিচালিত হয়।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা