× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আখ চাষে ঝুঁকছেন রাঙামাটির কৃষকরা

অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ১৪:১৮ পিএম

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় চাষকৃত আখক্ষেত। প্রবা ফটো

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় চাষকৃত আখক্ষেত। প্রবা ফটো

রূপ-লাবণ্যের শহর হিসেবে পরিচিত পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি। এ জেলার অধিকাংশ এলাকায় যুগ যুগ ধরে তামাক চাষ করা হতো। তামাক চাষ ক্ষতিকারক হওয়া সত্ত্বেও বেশি লাভজনক হওয়ায় এবং তামাকজাত কোম্পানি থেকে অগ্রিম অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ায় পাহাড়ের কৃষকরা পণ্যটি চাষ করতেন। সরকার তামাকের আগ্রাসন রুখে দিতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে আখ চাষ করতে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে আখ চাষে ঝুঁকছেন রাঙামাটির কৃষক।

চিনি ও গুড় তৈরিতে আখের ভূমিকা অন্যতম। উচ্চফলনশীল ফসল হিসেবে আখের যথেষ্ট সুনামও রয়েছে। বর্তমানে উন্নত জাতের আখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার প্রান্তিক আখ চাষিরা। স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছেন রাঙামাটির অন্যান্য কৃষক।

কাপ্তাইয়ের ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নস্থ বারঘোনা তনচংগ্যাপাড়ায় সরেজমিন দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একের পর এক আখের ক্ষেত। বর্তমানে সেখানকার প্রায় প্রতিটি আখক্ষেতের আখগুলো বেশ পরিপক্ব হওয়ার ফলে দেখতেও বেশ ভালো লাগছে। ইতোমধ্যে চাষিরা আখ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আখ কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছুটে যাচ্ছেন চাষিদের কাছে।

প্রায় ৪০ শতক জমিতে আখ চাষ করে আসছেন বারঘোনার স্থানীয় বাসিন্দা রাশিয়া তনচংগ্যা। তিনি জানান, বংশপরম্পরায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আখ চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রথম দিকে নিজস্ব অর্থায়নে আখ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্টের সহযোগিতায় আখের উন্নত জাত রঙবিলাশের চাষ করছেন। আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে আখগুলো ঘরে তুলতে পারবেন। আখ চাষ করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় দ্বিগুণ বা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। 

বারঘোনার স্থানীয় আরেকজন সফল চাষি মৃণাল তনচংগ্যা। তিনি অন্যান্য ফসলের চাষ করলেও বর্তমানে আখ চাষে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, তারও প্রায় ৩৩ শতক জমিতে সরকারি সহযোগিতা এবং নিজস্ব চেষ্টায় তিনি আখ চাষ শুরু করে সফলতা পাচ্ছেন। আখ চাষের সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় পানির সমস্যা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি এই বারঘোনা তনচংগ্যাপাড়ায় পানির সমস্যা দূর করা যায় এবং স্থানীয় চাষিদের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, তবে তারা সবাই উপকৃত হবেন। 

এদিকে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন আখক্ষেত থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত পাইকারি দরে আখ সংগ্রহ করে আসছেন আখ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান, আব্দুর রহিমসহ বেশ কয়েকজন। তারা জানান, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলের পাহাড়ের ঢালের সমতলে উৎপাদিত এসব আখের যথেষ্ট সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে এখানে আখের দামও অনেক সাশ্রয়ী। এ ছাড়া কাপ্তাইয়ের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় প্রতিবছরই আমাদের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই আখ ব্যবসা করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, আখ আমাদের অর্থকরী ফসল। একসময় দেশে ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য আখ চাষ কমে এসেছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি চাষে সুদিন ফিরে এসেছে। অনেক চাষিই বর্তমানে আখ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পাশাপাশি আমরা কাপ্তাইয়ের আখ চাষিদের আখের ক্ষেতের মধ্যেই সাথী ফসল হিসেবে সরিষা বা অন্যান্য ফসল চাষাবাদে পরামর্শ দিয়ে চাষিদের আগ্রহী করে আসছি। এ ছাড়া সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে কাপ্তাইয়ের আখ চাষিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে আখ চাষিরা অনেকটা উপকৃত হয়েছেন। সর্বোপরি বলা যায় যে, দেশে প্রয়োজনীয় চিনির চাহিদা মেটানোর জন্য আখ চাষের বিকল্প নেই। তাই কৃষকদের এই অর্থকরী ফসল চাষে আরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা