রিজার্ভ চুরি
প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২২ ১৪:২৮ পিএম
আরসিবিসি। ফাইল ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার চুরির ঘটনায় নাম জড়িয়ে ‘মানহানির’ অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে ফিলিপিন্সের আদালত। গত ৩০ জুন ফিলিপিন্সের আদালতে মামলা খারিজের রায় দেয়।
গতকাল বুধবার সেই রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা ওরা করেছিল, সেটা খারিজ করে দিয়েছে সে দেশের কোর্ট।’
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই চুরি করা হয়। এর মধ্যে একটি বার্তায় শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিতে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।
আরও চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে তিনটি ক্যাসিনোর কাছে অর্থ চলে যায়।
এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।
চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় আরসিবিসির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে জেনেও অ্যাকাউন্ট খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়গুলো ঘটতে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ মামলা করার দুই দিনের মাথায় ৬ মার্চ ফিলিপিন্সের সিভিল কোর্টে আরসিবিসি পাল্টা ১০ কোটি পেসোর (১৯ লাখ ডলার) মানহানির মামলা করে। মামলায় বলা হয়, টাকা আদায় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বিরাট এক ষড়যন্ত্র’ শুরু করেছে। দেশটি আরসিবিসির ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে’ উঠেপড়ে লেগেছে। মামলায় তারা উল্লেখ করে, চুরি হওয়া টাকাগুলো কখনোই আরসিবিসির কাছে ছিল না, ওই টাকার ‘দায়ও আরসিবিসির নয়’।