প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৩ ১৬:৩০ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৫:৪৭ পিএম
চিত্রশিল্পীর কল্পনায় সৌরশক্তিচালিত চুল্লি। ছবি : সংগৃহীত
সৌরশক্তি ব্যবহার করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও প্লাস্টিক বর্জ্যকে টেকসই
জ্বালানি ও প্রসাধনীতে রূপান্তরের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। উদ্ভিদের
সালোক সংশ্লেষণ পদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন তারা।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এমন একটি সৌরচালিত চুল্লি আবিষ্কার
করেছেন, যা এই রূপান্তরের কাজগুলো করতে সক্ষম।
এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রের সহলেখক ডক্টর সায়ান বলেছেন, এই সৌরচালিত
সিস্টেমটি দুটি ক্ষতিকর বর্জ্য প্লাস্টিক ও কার্বনকে গ্রহণ করে সত্যিকার দরকারি কিছুতে
রূপান্তর করতে পারে।
তারা নতুন এই চুল্লির মাধ্যমে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে সিঙ্গাসে
পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন, যা টেকসই তরল জ্বালানির মূল বিল্ডিং ব্লক। আর এই অগ্রগতিকে
জ্বালানি গবেষণায় বড় মাইলফলক ধরা হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য
গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে জ্বালানিতে পরিণত করা যাবে। ফলে তা পরিবেশের জন্যও ভালো।
কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য কার্বন নিঃসরণকেই দায়ী করা হয়।
এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইউসুফ হামিদ ও অধ্যাপক
এরউইন রেইসনার বলছেন, এই প্রযুক্তি আমাদের বিকল্প শক্তির উৎস প্রদান করে জীবাশ্ম
জ্বালানিকে সম্পূর্ণভাবে বাইপাস করতে সাহায্য করবে।
অধ্যাপক রেইসনার বলেন, ‘আমরা কেবল
ডিকার্বনাইজেশনে আগ্রহী নই, ডি-ফসিলাইজেশনেও। সত্যিকারের সবুজ অর্থনীতি তৈরি করার জন্য
আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঝারি মেয়াদে প্রযুক্তিটি শিল্প থেকে কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং সেগুলোকে দরকারি কিছুতে পরিণত করতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানিকে সমীকরণ থেকে
সম্পূর্ণরূপে কেটে বাদ দিতে হবে এবং বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ধরতে হবে।’
বিদ্যমান কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ (সিসিএস) সিস্টেমগুলো বায়ু থেকে
কার্বন-ডাই-অক্সাইড টেনে আনে ও ভূগর্ভে সংরক্ষণ করে। অথচ নতুন এই প্রযুক্তিতে বিদ্যমান
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বাদ না দিয়েই, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেও প্রয়োজনীয় শক্তি
পেল এবং এর থেকে নির্গত কার্বনকেও জ্বালানি উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবিলাতেও অগ্রণী ভূমিকা
পালন করবে। সৌরচালিত জেনারেটরটি সফলভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যকে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত
করতে সক্ষম। আর এই যৌগটি প্রসাধনী শিল্পে ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহৃত হয়।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্যানুসারে, প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি
টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যা পুরো মানবজাতির ওজনের সমান। এর মধ্যে কেবল ৯
শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং বাকিগুলো ভূপৃষ্ঠে জমা হতে থাকে। এমনকি মাইক্রোপ্লাস্টিক
হিসেবেও সাগরের পানিকেও দূষিত করে।
প্লাস্টিককে জ্বালানি হিসেবে তৈরিতে উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল।
কিন্তু সৌরশক্তির ক্ষেত্রে এর মূল উপাদানের (সৌর তাপ) জন্য কোনো ব্যয় করতে হচ্ছে না।
পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কার্বন নিঃসরণ ও প্লাস্টিককেই প্রধানত দায়ী করা হয়। সেই কারণে নতুন এই প্রযুক্তিকে গেম চেঞ্জার বলছেন গবেষকরা।
সূত্র : সাইটেক ডেইলি