প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৯:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই ক্রেডিট কার্ড খোলার প্রমাণ পাওয়ায় ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাংকটিকে জরিমানার এই অর্থ গ্রাহকদের প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে ফি আদায় করেছে ব্যাংক অব আমেরিকা। এ ছাড়া তারা গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বোনাস প্রদান করেনি। এমনকি কয়েক লাখ গ্রাহককে ২০১২ সাল থেকে নীতিবহির্ভূতভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। কর্মীদের ক্রেডিট কার্ড বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গ্রহকদের আবেদন বা অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্ট ইস্যু করেছে ব্যাংকটি। তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ব্যাংক অব আমেরিকা। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) এবং অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির (ওসিসি) কাছে জরিমানার এই অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএফপিবি জানায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ফি নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে লেনদেন প্রত্যাখ্যান করলেও ৩৫ ডলার চার্জ করা হতো। এমনকি একই লেনদেনের জন্য তারা বারবার ফি নিয়েছে, যা গ্রাহকদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংক অব আমেরিকা জানায়, একটি পর্যাপ্ত তহবিলের জন্য ৩৫ ডলার ফি চার্জ করা হতো, যা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওভারড্রাফ্ট ফি কমানো হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংক অব আমেরিকা তাদের ক্রেডিট কার্ড খোলার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে তিন বছরের জন্য এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় তারা।
সিএফপিবির ডিরেক্টর রোহিত চোপড়া বলেছেন, ‘ব্যাংক অব আমেরিকা গ্রাহকের অনুমতি না নিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। ব্যাংকটির এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে ব্যাংকটি তাদের গ্রাহকদের নৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। সিএফপিবি ব্যাংক ব্যবস্থাপনার এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে।’ ব্যাংক অব আমেরিকা বলছে, ২০২২ সালের প্রথমার্ধে করা পরিবর্তনের ফলে ওভারড্রাফ্ট এবং অপর্যাপ্ত তহবিল ফি থেকে উপার্জন করা অর্থের পরিমাণ ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
এদিকে দেশটির রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন কনসার্টের টিকিট, এয়ারলাইন ফ্লাইটসহ বিভিন্ন শিল্পজুড়ে অবৈধ চার্জ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি কংগ্রেসকে নির্দিষ্ট কিছু চার্জ বেআইনি ঘোষণা করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী সিএফপিবি ২০২২ সালে ব্যাংক এবং তাদের গ্রাহকের ফি যাচাই-বাছাই বাড়িয়েছে। ওভারড্রাফ্ট ফি সম্পর্কে ভোক্তাদের কাছ থেকে অভিমত জানতে চেয়েছে।
হোয়াইট হাউস বলছে, ওভারড্রাফ্ট ফির কারণে বার্ষিক হিসাবে জনসাধারণ বার্ষিক ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এটি বন্ধ করা হবে।
এদিকে ২০১৪ সালেও গ্রাহকদের থেকে অবৈধভাবে চার্জ কাটার কারণে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ২ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। এ ছাড়া গ্রাহকদের ৭০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বেকারদের অর্থ সুবিধা প্রদানে বাধা দেওয়ায় গত বছর ব্যাংকটিকে সাড়ে ২২ কোটি ডলার জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে টানা দুই মাসে তিন ব্যাংকের পতনের ফলে ব্যাংক খাত নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। চলতি বছরের মার্চে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক এবং সিগনেচার ব্যাংকের পতনের মে মাসে ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংকের পতন এ খাতের ঝুঁকি আরও তীব্র করে তুলেছে। সূত্র : বিবিসি