× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি কুষ্টিয়ার ৩ অর্থনৈতিক অঞ্চল

দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩৪ পিএম

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা রেলওয়ে ষ্টেশন। প্রবা ফটো

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা রেলওয়ে ষ্টেশন। প্রবা ফটো

কুষ্টিয়ার তিন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় দেড় যুগেও আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কুষ্টিয়ায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পনগরী ও স্থলবন্দর গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে এবং অর্থনৈতিক শক্তি চাঙ্গা হবে। তবে জেলার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি হস্তান্তর ও কুমারখালীতে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের কাজ এর আগে সম্পন্ন হলেও দৌলতপুর সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করতে প্রাগপুরে স্থলবন্দর স্থাপন দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল আলোর মুখ দেখলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদলের নিয়ামক হয়ে উঠবে। 

দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর থেকে লালন শাহ সেতু হয়ে জাতীয় মহাসড়ক মাত্র ২০ কিলোমিটার এবং ওপারে পশ্চিমবঙ্গের শিকারপুরে ভারতের জাতীয় মহাসড়ক। ব্রিটিশ আমলে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতু ছিল। সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াতের অন্যতম রোড হিসেবে ব্যবহার করা হতো প্রাগপুরকে। কালক্রমে ওই সেতু বিলীন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করতে ফের পথটি চালু করা দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। 

জানা গেছে, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রাগপুরে স্থলবন্দর বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ফের ব্যাপক সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাগপুর স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-কলকাতার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে, যা দুই দেশের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া প্রাগপুরে স্থলবন্দর বাস্তবায়ন করতে অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও বড় কোনো অর্থের দরকার হবে না দুই দেশের সরকারের। মহাসড়ক কাছাকাছি হওয়ায় অনায়াসে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। শুধু মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ছোট একটি ব্রিজ নির্মাণ করা দরকার। তা ছাড়া বৈধ পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে চোরাচালানসহ অবৈধ পথে পণ্য আনা-নেওয়াও বন্ধ হবে। ফলে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব পাবে সরকার, সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। তাই প্রস্তাবিত এই স্থলবন্দরের দ্রুত বাস্তবায়ন চান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা কুষ্টিয়ায় একটি নতুন ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র (আইভ্যাক) উদ্বোধন করেন। সে সময় কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী নেতারা দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কোন্নয়নে প্রাগপুর স্থলবন্দর দ্রুত স্থাপনের দাবি তোলেন। 

জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায়ী নেতা অজয় সুরেকা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ব্যবসায়ীরা ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে প্রাগপুর স্থলবন্দর চালুর দাবি উত্থাপন করলে তিনি তাৎক্ষণিক তার সঙ্গে থাকা রাজশাহীতে নিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনারকে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ মে প্রাগপুর সীমান্তে প্রস্তাবিত স্থলবন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। পরিদর্শনের পর তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে পজিটিভ রিপোর্ট পাঠিয়েছেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী। 

এদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম। ২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এজন্য ভেড়ামারা উপজেলার চরমোকারিমপুর, আরাজিসারা এবং চররূপপুর মৌজায় প্রায় ৫০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। রেলওয়ে এবং সরকারের অব্যবহৃত জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ওই এলাকাকেই বেছে নেওয়া হয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য। ২০১৭ সালের ১০ জুন জেলা প্রশাসন ৩১২ একর খাসজমির দলিল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এর পর থেকে এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনও দফায় দফায় স্থান পরিদর্শনের মধ্যেই রয়ে গেছে কার্যক্রম। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস সহজলভ্যতার জন্য দেশের ২২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসেবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাকে বিবেচনা করে ভারত সরকার এবং সে দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা মনে করেন, ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে এ এলাকায় তথা কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকাশ কুমার কুণ্ডু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ভেড়ামারায় যোগদান করা খুব বেশি দিন হয়নি। এ সময় পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলসংক্রান্ত কোনো ফাইল আমার কাছে আসেনি। তবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বলতে পারবে। 

অন্যদিকে জমির রেকর্ড জটিলতায় ভুল থাকার কারণে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে বারবার সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বিসিক থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে শিল্পে জড়িয়ে অনেকে সফলতা পেলেও কেউ কেউ নানাবিধ কারণে পুঁজি পর্যন্ত হারিয়ে পথে বসেছে। মূলত নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অপরিকল্পিত ও বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠেছে কুমারখালীর তাঁতসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

কুমারখালীতে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিএনপি জোট সরকার জিলাপিতলার জায়গা নির্ধারণও করেছিল। কিন্ত সরকার পরিবর্তন হলে সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক এমপি আব্দুর রউফ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।

কুমারখালীতে অর্থনৈতিক জোন গড়তে তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আধুনিক ও পরিকল্পিত একটি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশের ডোবা ভরাট করে ১০০ দশমকি ৫৬ একর জায়গায় শিল্পনগরী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। 

বিসিক কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মো. আশানুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কুমারখালীতে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, বিভিন্ন জটিলতায় সে প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পুনরায় কুমারখালীতে ৫০০ একর জায়গার ওপর বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা