× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফুলবাড়িয়ায় সম্ভাবনাময় আগর বৃক্ষ

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৩:২০ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

এক সময় আগরশিল্পের জন্য খ্যাত ছিল সিলেট। পঞ্চাশের দশকের পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চলের আগর-আতরের ওপর নির্ভরশীল ছিল সারা বিশ্ব। সে সময় আগর-আতরের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন সিলেট অঞ্চলের আগর ব্যবসায়ী ও চাষিরা। এখন আবার নতুন করে সম্ভবনা জাগাচ্ছে ফুলবাড়িয়ার আগর বনায়ন। ২০০৮ সাল থেকে ফুলবাড়িয়া বনাঞ্চলের সন্তোষপুর পাহাড়ি অঞ্চলে বন বিভাগ আগর বনায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। সন্তোষপুর বনাঞ্চলের মাটি আগর চাষের উপযোগী বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। 

আগর গাছগুলো দেখতে অনেকটা শাল বা গজারি গাছের মতো। এ গাছের পাতা দেখতে কিছুটা লিচু ও বকুল গাছের পাতার ন্যায়। আগর গাছের কাঠ খুবই নরম। এই কাঠ মূল্যবান আতর উৎপাদনের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বন বিভাগ আগর বনায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। সন্তোষপুর বনাঞ্চালে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ১৫৭ জন উপকারভোগীকে আগর বাগানের আওতায় আনা হয়। 

আগার চাষের খরচ অন্যান্য চাষাবাদের তুলনায় অনেক কম এবং লাভজনক। এক কেজি আগর আতরের দাম ৫ লাখ টাকার বেশি। এক কেজি কালো কাঠের দাম দুই লক্ষাধিক টাকা। একটি প্রাপ্তবয়স্ক আগর গাছের কাঠের মূল্য ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি।

আগর গাছ রোপণের পাঁচ বছরের মাথায় পুরো গাছে এক ইঞ্চি পরপর পেরেক মারা হয়। তখন গাছ থেকে এক ধরনের কষ বের হয়। পেরেক লাগানোর নির্দিষ্ট স্থানের চারপাশে ওই কষ জমে গাঢ় কালো রঙ ধারণ করে। ওই কালো রঙের কষটুকুই হলো আতরের মূল্যবান উপাদান। এর পর গাছ কেটে ছোট ফালি করে কাঠ থেকে সব পেরেক তুলে নেওয়া হয়। তখন কাঠের কালো ও সাদা অংশ আলাদা করা হয়। ওই কাঠ কারখানায় নিয়ে পানিতে প্রায় দেড় মাস ভেজানো হয়। তার পর বড় পাত্রে এগুলো জাল দেওয়া হয়। তখন পাতন পদ্ধতিতে ফোঁটায় ফোঁটায় আতর নির্দিষ্ট পাত্রে জমা হয়। সেগুলো আবার প্রক্রিয়াজাত করে ভাগ করা হয় ভিন্ন ভিন্ন কোয়ালিটিতে। তার পর বোতলজাত করে পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। 

উপকারভোগী আগরচাষি ওহাব ছিদ্দিক ও নিতাই চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আগর বাগান করতে বন বিভাগের লোকজন আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। আমরা মনে করছি, তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে আমরা লাভবান হতে পারব।’ 

সন্তোষপুর বনাঞ্চলের বিট কর্মকর্তা মো. আ. রউফ মিয়া জানান, আগর গাছ অতি মূল্যবান। এটা দিয়ে মূল্যবান আতর তৈরি করা হয়। সন্তোষপুর বনাঞ্চলের প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ১৫৭ জন উপকারভোগীকে আতর বাগানের আওতায় আনা হয়েছে। এই আগর গাছের আবর্তকাল ২০ বছর। এই গাছ পরিপক্ক ও আতর উৎপাদনের উপযুক্ত হলে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে উপকারভোগীদের মাঝে এ অর্থ প্রদান করা হবে। 

রসুলপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, আগর চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এর মাধ্যমে আগরচাষিরা লাভবান হতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশে পাঁচটি আগর ফ্যাক্টরি করা হবে। তার মধ্যে ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলের জন্য একটি বরাদ্দ আছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা