প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৪:০৪ পিএম
প্রবা ফটো
বন্ড সুবিধায় পণ্য এনে সেগুলো খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। কাস্টমস বন্ড কর্মকর্তাদের তদারকির পরও থামছে না বন্ড সুবিধার এই অপব্যবহার। তাদের নজরদারি এড়িয়ে অহরহ ঘটছে খোলাবাজারে বন্ড সুবিধার পণ্য বিক্রি। কাস্টমস বন্ড কর্মকর্তারা বলছেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে প্রতি মাসেই চালান আটক করছেন। কিন্তু তাতেও খোলাবাজারে বন্ড সুবিধার পণ্য বিক্রি কমছে না।
বন্ডেড সুবিধা বলতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুল্ক কর পরিশোধ ছাড়া কাঁচামাল এবং প্যাকিং সামগ্রী আমদানির সুবিধা প্রদানকে বোঝায়। তাই নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডেড সুবিধায় কাপড় এনে সেগুলো দিয়ে পোশাক তৈরির পর রপ্তানি করতে হয়, খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরানী বাজারে অবস্থিত মেসার্স বডিস্ট্রেচ বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে উঠেছে এমনই অভিযোগ। ঢাকা (দক্ষিণ), কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ৩ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তিনটি বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ব্যবহার করে ৪৩ লাখ কেজি বিভিন্ন প্রকার ফেব্রিক্স ও অ্যাকসেসরিজ আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রযোজ্য শুল্ক করের পরিমাণ ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সাল থেকে কোনো নিরীক্ষা করেনি এবং সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ দেখতে পান কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধ অপসারণ করা হয়েছে। কাস্টমস আইন ১৯৬৯ সালের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি মাসেই চালান আটক হচ্ছে। জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্ডেড লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও বন্ডেড সুবিধার পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি থামছে না।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক খসরু চৌধুরী বলেন, বিজিএমএ থেকে যখন ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) দেয়, তখন আমরা শতভাগ চেক করেই দেওয়ার চেষ্টা করি। এরপরও টুকটাক যে বন্ডের অপব্যবহার হচ্ছে না, সেটা বলা মুশকিল। কিন্তু বিজিএমইএর পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করা হচ্ছে।