× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেডান কার উৎপাদনে যাচ্ছে প্রগতি

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৭ পিএম

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাস্তায় চলাচল করা ব্যক্তিগত গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেডান কার। বাংলাদেশে যে পরিমাণ গাড়ি আমদানি করা হয় তার প্রায় ৭০ শতাংশই সেডান। বিপুল চাহিদার পরও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সেডান কার তৈরির পূর্ণাঙ্গ কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি।

স্বাধীনতার ৫২ বছর পর অবশেষে সেই পথে হাঁটতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। জনপ্রিয় এই গাড়ি উৎপাদনে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তার আগে চলতি অর্থবছরের মধ্যে অ্যাসেম্বল কার্যক্রম শুরু করতে চায় তারা। 

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সেডান কার উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সেডান কার উৎপাদন এবং সংযোজনের একটি প্ল্যান্ট তৈরির জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। মিৎসুবিসির সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সেডান কার প্রস্তুত করতে চাচ্ছি। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সেডান কার সংযোজন প্ল্যান্ট নিয়ে আমরা আমাদের চাহিদার কথা তাদের জানিয়েছি। তারা আমাদের সঙ্গে সেডান কার প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।’

কবে নাগাদ শুরু করতে পারবেন জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মিৎসুবিসি আমাদের সেডান কার নিয়ে স্পেসিফিকেশন দেবে। এরপর ওই স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী আমরা দেশের বাজারে থাকা টয়োটা, প্রোটন ব্র্যান্ডের কারের সঙ্গে তুলনা করে দেখব। এর মধ্যে যেটি মানের দিক থেকে ভালো এবং দামে ওইসব কারের চেয়ে কম থাকবে সেটিকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। মিৎসুবিসির সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে খুব বেশি সময় লাগবে না। চলতি বছরের মধ্যে সেডান কার সংযোজন প্ল্যান্ট চালু করতে পারব। প্রাথমিকভাবে আমরা ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসির সেডান কার বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে সেডান কার উৎপাদন ও সংযোজন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেডান কার উৎপাদন ও সংযোজনের একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর এই বাজেট বক্তৃতার পর সেডান কার প্ল্যান্ট নির্মাণে তোড়জোড় শুরু করে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ।

সেডান কার সাধারণত সেইসব গাড়িকে বলা হয়, যেসব গাড়ির ইঞ্জিন সামনে থাকে, বসার জন্য দুই সারি আসন থাকে এবং মালামাল বহন করার জন্য গাড়ির পেছনের অংশে আলাদা জায়গা থাকে। জনপ্রিয় সেডান গাড়ির মধ্যে টয়োটা প্রিমিও, অ্যালিয়ন, অ্যাক্সিউ, মিৎসুবিসি ল্যান্সার, অ্যাট্রেজ, মাজদা এক্সেলা, হোন্ডা গ্রেস, সিভিক উল্লেখযোগ্য। প্রোটন ব্র্যান্ড ছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের সেডান কারগুলো এতদিন রিকন্ডিশনড আমদানি করা হতো। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সংযোজন শুরু করলে সেটি সেডান কারের বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দামে কম থাকলে অনেক মধ্যবিত্তও এই গাড়ি কিনতে পারবে। 

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জেনারেল মোটরসের কারিগরি সহযোগিতায় চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ডে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডেড নাম দিয়ে জাতীয়করণ করা হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটিতে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড কোম্পানির বাস ও ট্রাক সংযোজন করা হতো। পরবর্তী সময়ে জাপানের মিৎসুবিসি, নিশান ও ইসুজুসহ ভারত, চীন, কোরিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন ও বাজারজাত করা হতো। বর্তমানে জাপানের মিৎসুবিসি মোটরস করপোরেশনের পাজেরো স্পোর্ট (কিউএক্স) জিপ, চীনের ফোর্ডে অটোমোবাইলসের ল্যান্ডফোর্ট এসইউভি জিপ সংযোজনপূর্বক স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করছে। এ ছাড়া পিআইএল মিৎসুবিসি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ, টয়োটা অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ইত্যাদি আমদানি করে বাজারজাত করছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হতে যাচ্ছে সেডান কার সংযোজন ও উৎপাদন। 

গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকে মনে করছেন, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সেডান কার উৎপাদন করলে দেশে সেডান কারের যে বিশাল মার্কেট আছে, সেটি তারা খুব সহজে ধরতে পারবে। মানের দিক থেকে ভালো এবং দাম কিছুটা কম থাকলে অনেকেই প্রগতির কাছ থেকে সেডান কার কিনবে। ডলার সংকটে গাড়ি আমদানি কমে যাওয়ার সময়ে চাইলে প্রগতি খুব সহজে দেশে সেডান কারের বাজার ধরতে পারবে। তবে কেউ কেউ এর বিপরীত মন্তব্যও করেছেন। তারা বলছেন, দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সেডান কার উৎপাদন করছে। জাপানি গাড়ির তুলনায় এসব গাড়ির স্থায়িত্ব কম। তাই সাধারণ ক্রেতারা এই গাড়িগুলো কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখায় না। প্রগতির অ্যাসেম্বল করা সেডান কার ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে না পারলে এটি মুখ থুবড়ে পড়বে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিকেল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সদস্য বেলায়েত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকার সার্কুলার জারি করে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ক্রয় বন্ধ রেখেছে। তাই এই মুহূর্তে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সেডান কার অ্যাসেম্বল করতে গেলে এটি খুব বেশি লাভজনক হবে না। কারণ প্রগতি থেকে ৯০ শতাংশের বেশি গাড়ি ক্রয় করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে খুব বেশি সাড়া পাবে না। কারণ দেশে অ্যাসেম্বল করা কারের চেয়ে আমদানি করা জাপানি সেডান কারে সাধারণ ক্রেতাদের আস্থা বেশি। অনেকে এখন দেশে সেডান কার উৎপাদন করছে, কিন্তু তারা খুব বেশি ভালো করতে পারছে না।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা