প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের ৭২২টি বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান গত এক বছরে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার মুনাফা করেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ক্রমবর্ধমান সুদের হারের বৃদ্ধির কারণে গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানগুলো উইন্ডফল প্রফিট (অবাধ মুনাফা) করেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে উন্নয়ন দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এবং অ্যাকশনএইড। তবে বিশাল এই মুনাফা অর্জনের চেষ্টা মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থা দুটি বলছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০২১ সালে ১ দশমিক শূন্য ৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ মুনাফা আগের চার বছরের (২০১৭ থেকে ২০২০) তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেশি।
ন্যায়নীতির তোয়াক্কা না করে বিশাল অঙ্কের মুনাফা অর্জনকে উইন্ডফল প্রফিট হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মুনাফা যদি আগের চার বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি হয়, তাহলে তাকে উইন্ডফল প্রফিট হিসেবে গণ্য করা হয়।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অক্সফাম এবং অ্যাকশনএইড জানায়, ফোর্বসের তালিকায় থাকা দুই হাজার বৃহত্তম কোম্পানির মধ্যে ৪৫টি ছিল জ্বালানিসম্পর্কিত। এ সময় জ্বালানি কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। তারা ২০২১ ও ২০২২ বার্ষিক হিসাবে গড়ে লাভ করেছে ২৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উচ্চ মুনাফার ফলে মোট ৯৬ জন জ্বালানি ব্যবসায়ী বিলিয়নেয়ারে পরিণত হয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সম্পদের মূল্য প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার, যা গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার বেশি।
এদিকে ২০২২ সালে বিশ্বের ৫৮টি দেশের এক কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছিল। এই সংকটের মধ্যেও অনেক খাদ্য ও পানীয় করপোরেশন, ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি এবং খুচরা বিক্রেতার আয়-ব্যয়ের হিসাবে মুনাফা বৃদ্ধি দেখা গেছে।
এই উচ্চ মুনাফার চেষ্টা মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফোর্বসের তথ্য বিশ্লেষণ করে অক্সফাম এবং অ্যাকশনএইড আরও জানায়, ২০২১ ও ২০২২ সালে ১৮টি খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার লাভ করেছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ২০২২ সালে ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে ২৮টি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। এ ছাড়াও ৪২টি বড় খুচরা বিক্রেতা এবং সুপার মার্কেটগুলোর গড় মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। একই সঙ্গে ৯টি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা করপোরেশন গড়ে ৪০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।
এ বিষয়ে অক্সফামের অ্যাডভোকেসি প্রধান কেটি চক্রবর্তী বলেন, ‘যখন যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে এবং খাদ্য ও জ্বালানি খরচ পরিশোধে যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ মুনাফার চেষ্টায় পণ্যমূল্য আরও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের চোখের জলের ওপর দাঁড়িয়ে যেভাবে মুনাফা করেছে, তা শুধু অনৈতিকই নয় বরং তার থেকে অনেক বেশি কিছু।’
শুধুমাত্র ১৮টি খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি যে পরিমাণ মুনাফা করেছে, তা পূর্ব আফ্রিকার লাখ লাখ ক্ষুধার্ত লোকের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এসব বিষয় নিয়ে সরকারগুলোর কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন কেটি চক্রবর্তী।
জীবনযাপন ব্যয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বস্তি আনবে না বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম সুপার মার্কেট সেন্সবারির প্রধান নির্বাহী সাইমন রবার্টস।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদনের খরচ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। উচ্চ মজুরি খুচরা বিক্রেতা এবং তাদের সরবরাহকারীদের জন্য শঙ্কা তৈরি করেছে। আমরা সবাই চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জ্বালানি খরচ কমে আসুক। তবে এটি কমে আসতেও কিছুটা সময় লাগবে।’ সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান