× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিযোগিতায় কমতে পারে নাইকি ও অ্যাডিডাসের দাম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৩ ২১:৫৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নাইকি ও জার্মানির অ্যাডিডাস। বিশ্বের দুটি শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড। আগামী দুই মাসের মধ্যেই রাজধানী ঢাকায় তাদের শোরুম খুলবে। এতে উচ্চ দরে বিক্রি হওয়া দেশীয় ব্র্যান্ডের জুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা হওয়ায় দাম কমতে পারে। অন্যদিকে বিদেশে গিয়ে যারা এসব ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতেন, তারা দেশেই পাবেন পছন্দের পণ্যটি।

এই দুই জায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ডিবিএল গ্রুপ। এর আগে ২০১৯ সালে তারা আরেকটি বিখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড পুমাকে ঢাকায় এনেছিল। সূত্র জানায়, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে তাদের স্টোর চালু হবে।

দেশের বাজারে বর্তমানে নাইকি ও অ্যাডিডাসের কিছু পণ্য পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম অনেক বেশি। যেমন- এক হাজার টাকা মূল্যছাড় দেওয়ার পরও পুরুষদের জন্য অ্যাডিডাসের অ্যাডিজিরো সিলেক্ট স্নিকার ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকায় বিক্রি করছে বাটা। অথচ একই স্নিকারের দাম ৮৮ ইউরোর কম। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৯ হাজার ১৫০ টাকা বা বাটার বিক্রয়মূল্যের অর্ধেকেরও কম।

নাইকি, অ্যাডিডাস ও পুমার প্রধান পণ্যসামগ্রী হলো জুতা, বা বিশেষত স্পোর্টস সু। 

এ ছাড়া তারা স্পোর্টসওয়্যার, ব্যাগ, ক্যাপসহ অন্যান্য পোশাক পণ্য বিক্রি করে। নাইকির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে নাইকির স্টোর আছে প্রায় ২ হাজার ২০০টি। একইভাবে অ্যাডিডাসের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, তাদেরও বিপণি আছে ২ হাজারের ওপরে।

দেশের বাজারে এসব পণ্যের অত্যন্ত বেশি দামের একটা বড় কারণ আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত শুল্ককর আরোপ। বর্তমানে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের ফুটওয়্যার পণ্যে ১২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি), ৩ শতাংশ রেগুলটরি ডিউটি (আরডি), ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি), ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি)।

অন্যদিকে ফুটওয়্যার উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম আমদানিতে ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি), ৩ শতাংশ রেগুলটরি ডিউটি (আরডি), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি), ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি)।

নাইকি-অ্যাডিডাস বাংলাদেশে গুলশানের মতো জায়গায় দুয়েকটা দোকান খুললে তাতে কিছু আসে-যায় না বলে মনে করেন বাটার কোম্পানি সেক্রেটারি মো. হাসিম রেজা। পরবর্তীতে বড় পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলে কী প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো দিনও হবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষের সেই ক্রয়ক্ষমতা নেই যে তারা ১০, ১৫, ২০ হাজার টাকার জুতা কিনবে। ওদের মার্কেট নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির জন্য। বড় কোম্পানি আসছে, এটা শুনে হয়তো প্রথম এক-দুই মাস চলবে, তারপর দেখবেন মাছি মারছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য তেমন কিছু না, হয়তো কিছু প্রভাব পড়বে যেহেতু একই ধরনের পণ্য তারা বাজারে আনবে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শোরুম খুলে জুতা বিক্রি করলে সেই অর্থ তারা নিজ দেশে নিয়ে যাবে। ওরা যে ধরনের ও দামের পণ্য বাজারে আনবে তাতে সাধারণ মানুষের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। ওদের সেগমেন্টটা হচ্ছে একদম এলিট ক্লাস। সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখছি না। কারণ তারা এমনিতেই সবকিছু বিদেশ থেকে কিনছে। এতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশের বাজারে প্রতিষ্ঠিত জুতার কোম্পানিগুলো কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ আমাদের এখানে খুবই উচ্চমূল্যের পণ্য নিয়ে তেমন কাজ হয় না। যা হয় সেটা খুবই সীমিত।

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণ একটা জুতার ওপর নাইকির একটা সিল বসলেই সেটা ২০ ডলার থেকে ৫০ ডলার হয়ে যায়। তবে এটা খুললে ভোক্তাদের যে চয়েস এবং অপশন বাড়বে। এ ছাড়া কিছুটা প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবেন আমাদের লোকাল ব্যবসায়ীরা। এটার ইতিবাচক দিকও আছে, একটা প্রাইজ প্রেশারের মধ্যেও তারা পড়বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক থেকে। যারা ব্র্যান্ডের দিকে যেতে চায় তারা একটা অপশন পেল। সাধারণভাবে আমরা যে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করি, তাদেরও সুযোগ দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা