× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কে খরচ বাড়াচ্ছে পাঁচ ইউটার্ন

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৫:১৯ পিএম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম

মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কে খরচ বাড়াচ্ছে পাঁচ ইউটার্ন

জমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধান, মাটি ভরাটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও নতুন করে পাঁচটি ইউটার্ন যুক্ত হওয়ায় ‘আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা আনোয়ারা সড়ক)’ প্রকল্পের খরচ বাড়ছে। 

ইতোমধ্যে এতে সায়ও দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের শতভাগ সফলতা পেতে এ সংযোগ সড়ক এখনই টেকসই করতে হবে বলে মনে করেন কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব। সম্প্রতি এ প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৪০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একনেকে অনুমোদিত হয়। মেয়াদ ধরা হয়েছিল জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত। কিন্তু নতুন করে প্রকল্পটিতে কতিপয় নতুন খাতের অন্তর্ভুক্তি, বিভিন্ন খাতের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে মোট ৪৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির মোট ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ২৩৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ।

খরচ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আমরা ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে। এর জমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধানও জরুরি। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা ও এর সুফল শতভাগ পেতে এর টেকসই কাঠামো এখনই প্রয়োজন। আরও কয়েকটি ইউটার্ন যুক্ত হয়েছে ভারী যানগুলো যাতে সহজে পার হতে পারে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৭ দশমিক ৮৩ একর ভূমির মধ্যে বিএস জরিপ অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নামে খতিয়ানভুক্ত কিছু জমি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা থাকায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৯৬ একরের বিপরীতে ১১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রাক্কলন পাওয়া গেছে। কিন্তু যথাযথ নকশা অনুযায়ী কিছু ইন্টারসেকশন/ইউটার্ন নির্মাণের জন্য অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন বিধায় প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ বাবদ অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে মূল ডিপিপিতে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষতিপূরণের প্রাক্কলন অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অতিরিক্ত ৪৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ সময় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন অনুবিভাগের উপপ্রধান বলেন, যেহেতু প্রকল্পটি একটি সংশোধিত প্রকল্প, তাই ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা আরও আগেই নিরসন করার প্রয়োজন ছিল। 

সভায় জানানো হয়, জমিসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জরুরিভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনের নির্দেশনা দেওেয়া হয়।

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে সড়কবাঁধ প্রশস্তকরণের জন্য ১ দশমিক ৯৮ লাখ ঘন মিটার মাটির কাজ এবং এর বিপরীতে ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। সভায় এর যুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, ‘সড়কের বিভিন্ন অংশের সাবগ্রেডে অনুপযুক্ত মাটি চিহ্নিত হয়েছে যেখানে গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট করা প্রয়োজন। রোড ডিজাইন ইউনিটের পরামর্শক্রমে সড়কের মৃত্তিকা অনুসন্ধান বিভাগ, দোহাজারী সড়ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে প্রস্তাবিত সড়কের ৪৮টি পয়েন্টের মাটির স্যাম্পল সংগ্রহ করে সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন সম্পন্ন করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই মাটির কাজের পরিমাণ বেড়েছে।’

এ সময় সওজের চট্টগ্রাম জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরও জানান, মূল প্রকল্পে তিনটি রাউন্ড অ্যাবাউট অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে উল্লিখিত তিনটি রাউন্ড অ্যাবাউটের পরিবর্তে ৫টি ইউটার্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এ পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এ ধরনের পরিবর্তন এড়ানোর জন্য পরিকল্পনা পর্যায়ে আরও বেশি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। উপপ্রধান বলেন, মাতারবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে ভবিষ্যতে যে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে তা বিবেচনায় নিয়ে এই সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ইতঃপূর্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে টানেলের উভয় পাশের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে একাধিক সভা আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে আনোয়ারা উপজেলার চাতুরি প্রান্তকে সংযুক্ত করে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। 

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, খাতগুলো ছোট হলেও ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ অস্বাভাবিক। ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন ও ঠিকাদার কর্তৃক প্রদত্ত কোটেশন অনুযায়ী এই দরগুলো নির্ধারিত হয়েছে বলে অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সভয় উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে পরিবর্তিত ডিজাইন ডিপিপিতে সংযোজন করে দেওয়ার জন্য সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা