হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৪:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। তবে ডলার সংকটে আমদানি কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি।
ডলার সংকটের কারণে গেল ২০২২-২৩ অর্থবছরে চাহিদামতো পণ্য আমদানি করতে পারেননি আমদানিকারকরা। সংকট নিরসনে একই সময়ে বিলাসী পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার ফলে গত অর্থবছরের আগস্ট মাস থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কমতে থাকে রাজস্ব আদায়।
ওই সময় টানা নয় মাস রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম থাকলেও বছর শেষে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এবার ২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে এবার ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাসই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারেনি কাস্টম হাউস। ডলার সংকটে আমদানি কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি।
২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৫৯ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মূলত তিনটি কারণে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। রাজস্ব আদায় নিয়ে কাস্টম হাউসের দায়ের করা অনেকগুলো মামলার রায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিষ্পত্তি হয়েছে। আপিল বিভাগ থেকে যেসব মামলার রায় হয়েছে, এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলার রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। এসব মামলায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় আটকা ছিল, মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় সেগুলো আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি গেল অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আমদানিও অনেক বেড়েছে, যার কারণে বছরের শুরুর দিকে রাজস্ব আদায়ের অবস্থা ঋণাত্মক থাকলেও বছর শেষে আমাদের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তাই সব মিলিয়ে সংকটের মাঝেও এবার বিগত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে।’
তবে রাজস্ব আদায় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে কাস্টম হাউস। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা কম আদায় করতে পেরেছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধির হারও কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল। কিন্তু এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গেল অর্থবছরের জুলাই এবং সর্বশেষ গত মে মাস ছাড়া আর কোনো মাসেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারেনি কাস্টম হাউস।
জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। ওই মাসে রাজস্ব আদায় হয় ৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। অন্যদিকে আগস্টে ৫ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৫ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে ৬ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৫ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।
অক্টোবরে ৬ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৬ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৭৯ কোটি ও ৪ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা।
জানুয়ারিতে ৬ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। মার্চে ৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৫ হাজার ৫২ কোটি টাকা। এপ্রিলে ৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৪ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।
তবে মে মাসে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। আগস্ট থেকে গত নয় মাসে যেখানে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি হয়েছে, ৪ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মে মাসে রাজস্ব আদায় হয় ৬ হাজার ৩০৮ কোটি টাকাÑ যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় এক হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বেশি।
সর্বশেষ জুন মাসে রাজস্ব আদায় আবারও কমে যায়। জুন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়। জুন মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।