× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নারীদের কর্মে গতি বাড়াতে দেশব্যাপী ডে-কেয়ারের আওতা বাড়াচ্ছে সরকার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৩ ১৩:৪৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

জীবনযাপনের মানোন্নয়নে দেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মস্থলে মনোযোগ নিশ্চিত এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বাড়াতে কর্মজীবী নারীদের শিশুসন্তানদের নিরাপদ দিবাকালীন সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প নিয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এজন্য খরচ ধরা হয়েছে ১২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। 

প্রকল্প প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতিটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ৫০ জন করে বছরে তিন হাজার এবং তিন বছরে মোট ৯ হাজার শিশুর দিবাকালীন সেবা দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে (৪ মাস থেকে ৬ বছর) বয়সি শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশসহ স্বাস্থ্যসেবা, প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা, অক্ষরদান, অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হবে। 

ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোয় প্রতিটি শিশুর ভর্তি ফি ২৫০ টাকা এবং মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা চাইলে কম-বেশি করতে পারবে। গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের শিশুদের জন্য ভর্তি ফি ২০০ টাকা ও মাসিক চাঁদা ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের সম্ভাবনা এবং কর্মদক্ষতাকে কর্মমুখী করতে না পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের ডে-কেয়ার সুবিধা না দিলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে না। 

প্রকল্প প্রস্তাবকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, জীবনযাত্রা এবং জীবনযাপনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নারীরা কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছু ডে-কেয়ার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা অত্যাবশ্যক। সে লক্ষ্যে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কর্মজীবী নারীদের কর্মস্থলে মনোযোগ নিশ্চিত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার হার বৃদ্ধি পাবে, যা নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সরাসরি অষ্টম বার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত বলেও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়। 

এ ছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য দেশের সব জেলা সদরে একটি করে এবং ঢাকাসহ সব মেট্রোপলিটন শহর ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপননের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। তারই ধারাবহিকতায় চলমান ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোর সঙ্গে সারা দেশে ডে-কেয়ার সুবিধা প্রদানের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। 

প্রকল্প প্রস্তাব সূত্রে জানা গেছে, নারীদের নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে কাজ করার জন্য সরকার প্রথমে ১৯৯১ সালে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করে। নিম্নআয়ের কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রকল্পের আওতায় দুই পর্যায়ে মোট ১২টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়, যা দেশব্যাপী পরিচালিত হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ঢাকা শহরে এবং পাঁচটি বিভাগীয় শহরে। 

নারীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে কর্মজীবী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মায়েদের শিশুদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরে ছয়টি ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হয়। সম্প্রতি ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন শিরোনামে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

বর্তমানে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ৪৩টি ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডে-কেয়ার সেন্টারের সফল বাস্তবায়ন এবং ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ৪০টি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এবং ২০টি জাতীয় মহিলা সংস্থা বাস্তবায়ন করবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা