প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সোনালি আঁশের সুদিন ফিরিয়ে আনতে উন্নত জাতের পাট উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনেও ভিন্নতা আর উন্নত প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের জন্য যেসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছিল, সেসব এলাকায় পাট উৎপাদনে আগ্রহী কোনো কৃষক পাওয়া যায়নি। তাই কিছু খাত বাদ দিয়ে এবং কিছু খাত সংযোজন করা হয়েছে। মূল প্রকল্পে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় কমেছে।
পাট অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এটি গত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (এননেক) অবগতি করা হয়েছে। অনুমোদনের পর প্রকল্পটির ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকায়। মূল অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭৬ কোটি ৬৬ লাখ। খরচ কমেছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার কিছু বেশি।
প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয়সংখ্যক আগ্রহী পাটচাষি না থাকায় নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর ও টংগিবাড়ী উপজেলাকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলাকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের খরচ কমার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ২৯২টি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির কারণে এ খাতটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় কমেছে ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রকল্পটিতে উন্নত জাতের পাটের বীজ উৎপাদন ও স্বল্প পানিতে পাট জাগ দেওয়ার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ৫ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল পাটবীজ উৎপাদনের জন্য ১ লাখ ৫০০ জন কৃষককে এবং গুণগতমানসম্পন্ন পাটের আঁশ উৎপাদন ও পচনের জন্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৫০ জন কৃষককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে খরচ হবে ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পাটচাষিদের তালিকা, প্রশিক্ষণ, কৃষক সমাবেশ, সেমিনার-কর্মশালা এবং পাটবীজ ও সার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তাই ২ বছর ৩ মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া রিবনের ক্রয় ও বিতরণ বাদ দিয়ে উন্নত পাট পচনের বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি ভর্তুকির মাধ্যমে পাটের জমিতে অগভীর গর্ত খনন ও পাওয়ার রিবন চাষিদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোট ১ হাজার ৬০৮টি কৃষি প্রদর্শনী মাঠ দিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ রকম বিভিন্ন কারণে প্রকল্প সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।