× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চোর ও পিঁপড়া খাচ্ছে যন্ত্রপাতি

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৩ ১৩:২২ পিএম

চোর ও পিঁপড়া খাচ্ছে যন্ত্রপাতি

আবহাওয়া, পানি এবং জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য সঠিক সময়ে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জানানো গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ৩৪০ কোটি টাকা খরচে পানিবিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। 

তবে তিন বছরের প্রকল্পটি সাত বছরেও শেষ হয়নি। নতুন করে ফের এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাপাউবো। এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির সুপারিশে বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্টেশনের যন্ত্রপাতি চুরি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ এবং স্টেশনের কূপের অভ্যন্তরে পিপিলিকা (পিঁপড়া) নিয়ন্ত্রণে টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সম্প্রতি প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন আইএমইডির কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, ভূগর্ভস্থ পানি সমতল স্টেশনের কূপের গভীরতার তথ্য পাওয়ার সুবিধার্থে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ক্যাবলসহ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কয়েকটি স্থানে যন্ত্র চুরি হয়ে যাওয়ায় এগুলো নতুন করে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চুরি রোধে স্টেশনের চারপাশে খাঁচা তৈরি করে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আইএমইডি তাদের প্রতিবেদনে স্টেশনের যন্ত্রপাতি চুরি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 

এ ছাড়া পরিদর্শনে আইএমইডির কর্মকর্তারা আরও দেখতে পান, অধিকাংশ কূপের অভ্যন্তরে প্রচুর পিঁপড়া। কূপের অভ্যন্তর পিঁপড়ামুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও সফল হওয়া যাচ্ছে না বলে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আইএমইডিকে জানান।

এ বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি সমতল স্টেশনের কূপের অভ্যন্তরে পিঁপড়া নিয়ন্ত্রণে টেকসই পদ্ধতি উদ্ভাবন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। 

স্টেশনের যন্ত্রপাতি চুরির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কী আর বলব, বাবুবাজারের আর্মি ক্যাম্পের পাশে যন্ত্র লাগিয়েও দুবার চুরি হয়েছে। নিরাপদ মনে করে আর কোথায় লাগাব। এগুলো তো বাইরেই লাগাতে হবে। ঘরের মধ্যে লাগালে তো আর হবে না। তবে সারা দেশে যতটা ভেবেছিলাম, ততটা চুরি হয়নি। খুবই কম চুরি হয়েছে। আমরা যতটুকু সম্ভব সিকিউরড জায়গায় লাগানোর চেষ্টা করছি।’

আর পিঁপড়া দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু কূপের অভ্যন্তরে পিঁপড়া সমস্যা করছে। তবে তারা যন্ত্র নষ্ট করতে পারবে না। তবুও আমরা পিঁপড়া দমনের ব্যবস্থা করছি।’ 

প্রকল্পের প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ইত্যাদি দুর্যোগ হতে সঠিক সময়ে পূর্বাভাস প্রদান ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য হারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন আবহাওয়া, পানি এবং জলবায়ুসংক্রান্ত সঠিক তথ্য। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। তবে সাত বছর পেরোলেও এখনও সুফল মেলেনি।

দূর্যোগে প্রকল্প কাজে লাগছে কিনা- জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্প শেষ হলে পুরোপুরি কাজে লাগবে। তবে এখনও আমরা সুবিধা পাচ্ছি। আগে আমরা সমুদ্র থেকে দিনে পাঁচবার তথ্য সংগ্রহ করতাম। এখন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯৬ বার তথ্য নিই। চাইলে প্রতি সেকেন্ডেই নেওয়া সম্ভব।

প্রকল্পের মূল কাজ হচ্ছেÑ দেশব্যাপী ৩০৮টি ম্যানুয়াল পানি সমতল পরিমাপক স্টেশনে টেলিমিটারিং যন্ত্রপাতি স্থাপন, ২৫৭টি বৃষ্টিপাত পরিমাপক যন্ত্রের অটোমেশন, বাপাউবো কর্তৃক পরিচালিত তিনটি আবহাওয়া স্টেশন আধুনিকায়ন, ভূগর্ভস্থ পানি সমতল স্টেশন অটোমেশন ৯০৫টি, বিভিন্ন প্রকার হাইড্রোলজিক্যাল যন্ত্রপাতি ক্রয়, উপকূলীয় ৪০টি জলোচ্ছ্বাস স্টেশন স্থাপন, হাইড্রোলজিক্যাল যন্ত্রপাতিসমূহের পরিচালন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন, বাপাউবোর আইসিটি সিস্টেম আপগ্রেডেশন, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান।

প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্যগুলো হলো- হাইড্রোলজিক্যাল মনিটরিং নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ, বিভিন্ন আধুনিক হাইড্রোলজিক্যাল যন্ত্রপাতি ক্রয়, সমগ্র দেশের বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নদীবাহিত বন্যা, আকস্মিক বন্যা, বৃষ্টিপাতজনিত বন্যা এবং সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানিসম্পর্কিত অন্যান্য দুর্যোগ যেমনÑ নদীভাঙন, লবণাক্ততা, পলিপ্রবাহ, খরার পূর্বাভাস বা আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ব্যবস্থার উন্নয়ন; হাইড্রোলজিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০৫টি স্বয়ংক্রিয় ভূগর্ভস্থ পানি সমতল স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬০৬টি টাইপ-এ (প্যারামিটারসমূহ : ভূগর্ভস্থ পানি সমতল, পানির তাপমাত্রা পরিমাপক) এবং ২৯৯টি টাইপ-বি (প্যারামিটারসমূহ : ভূগর্ভস্থ পানি সমতল, পানির তাপমাত্রা, স্যালাইনিটি, কন্ডাক টভিটি, টিডিএস পরিমাপক)। কূপের ধরনের ওপর ভিত্তি করে স্টেশনসমূহের মধ্যে ৩৫৭টি ক্লাস্টার ওয়েল, ১১৯টি লাইন ওয়েল, ৩৯৭টি সিঙ্গেল ওয়েল এবং ৩২ স্যালো লাইন ওয়েল রয়েছে। কূপের গভীরতা তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ক্যাবলসহ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ প্যাকেজের বাস্তব অগ্রগতি ৯০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্টেশনসমূহের স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। পরিদর্শনকৃত স্টেশনসমূহসহ সব স্টেশনের কমিশনিং সম্পন্ন হলেও এগুলোর ট্রাবল শুটিং ও ফাংশনিং রাখার জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্টেশনসমূহ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজন। এসব বিষয় বাস্তবায়নের জন্য জুন-২০২৪ পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। স্টেশনসমূহ ট্রাবল শুটিং করা ও ফাংশনিং রাখা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান না করলে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত স্টেশনসমূহ হতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া ও প্রকল্পের ফল টেকসই না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির সুপারিশে আইএমইডি বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের বিপর্যয়ের কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজের বাস্তবায়নের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটেছে। প্যাকেজসমূহ হাইলি টেকনিক্যাল ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ফাংশনালি ভেরিফিকেশন জটিল। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ট্রাবল শুটিং করে স্থাপিত যন্ত্রসমুহ টেকসইভাবে ফাংশনিং রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছেম যা সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া স্থাপিত যন্ত্রপাতিসমূহ টেকসইভাবে স্থাপন করে এসব যন্ত্রপাতির পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ এক বছর অর্থাৎ জুন-২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, প্রকল্প শুরুতে দেরি হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়া এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ তিনটি সংস্থা মিলে কাজ করা হচ্ছে। তাই কিছুটা দেরি হয়েছে। করোনায়ও কিছুটা গতি কমেছে। তবে কাজ ভালো হচ্ছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা