× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১৮ দিনে কলমানিতে লেনদেন দেড় লাখ কোটি টাকা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ১৯:৪২ পিএম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩ ২০:১৯ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) মুসলমানদের বৃহৎ উৎসব ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার জন্য সাধারণ মানুষের ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রবণতা বেড়েছে। এতে তারল্য সমস্যায় পড়েছে ব্যাংকগুলো। আর এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার করার প্রবণতা বাড়িয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। চলতি জুন মাসের ১৮ কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি ধার করেছে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ধারের পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই ধার ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংক থেকে মানুষের টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ধারের পরিমাণও বাড়ছে। এজন্য তারল্য সংকটে পড়া ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি ধার বাড়িয়েছে। ফলে আন্তঃব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি ধারের চাপ বাড়ছে। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস সোমবার আন্তঃব্যাংকে ধারের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫২ কোটি টাকা। আগের দিন রবিবার এই ধারের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ শেষ দুই কর্মদিবসেই কলমানিতে ব্যাংকগুলোর ধার নেওয়ার চাপ ছিল।

জুন মাসের শুরু থেকে আন্তঃব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি ধারের চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের ১৮ কার্যদিবসে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা ধার করা হয়েছে, যার বড় অংশই নেওয়া হয়েছে এক দিনের জন্য। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেয় ব্যাংকগুলো।

এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ’ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার কারণে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়ে যায়। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। এসব ধারের বেশিরভাগই থাকে স্বল্পমেয়াদি। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’ 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে আন্তঃব্যাংক বাজারে ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। ১ জুন এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ধার করে। ৪ জুন এ ধারের পরিমাণ বেড়ে ৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ৫ জুন ধারের অঙ্ক ছিল ৮ হাজার ৯১১ কোটি। ৬ জুন ৯ হাজার ২২৯ কোটি টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। এরপর ধারের পরিমাণ কিছুটা কমে ৭ জুন ৮ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা হয়। 

এরপর আবারও ধারাবাহিকভাবে বাড়ে কলমানিতে ধার। ৮ জুন ধার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। পরদিন ১১ জুন তা আরও বেড়ে হয় ৯ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১২ জুন ৮ হাজার ২২৯ কোটি, ১৩ জুন ৮ হাজার ৫০২ কোটি, ১৪ জুন ৭ হাজার ৫৩৯ কোটি, ১৫ জুন ৭ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। 

ঈদের আগে শেষ সাত কর্মদিবসে প্রতিদিন গড়ে ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ ছিল সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধার করা হয়েছে ২৫ জুন। ওই দিন ধারের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১৮ জুন ৮ হাজার ২৭৭ কোটি, ১৯ জুন ৮ হাজার ৫০০ কোটি, ২০ জুন ৯ হাজার ৭১০ কোটি, ২১ জুন ৮ হাজার ৮৯ কোটি এবং ২২ জুন ৯ হাজার ১০ কোটি টাকা ধার করেছে। আর শেষ কর্মদিবস ২৬ জুন ধারের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫২ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে চলতি মাসে ব্যাংকগুলো কলমানিতে ধার করেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকাই স্বল্পমেয়াদি (ওভার নাইট) ধার।

সোমবার আন্তঃব্যাংক ৯ হাজার ৫২ কোটি টাকা ধারের মধ্যে এক দিন মেয়াদি ধারের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। গড়ে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ সুদে এ লেনদেন হয়। আগের দিন রবিবার কলমানিতে ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ধারের মধ্যে এক দিন মেয়াদি ধার ছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা, যার গড় সুদ ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। 

কলমানি ছাড়াও আন্তঃব্যাংকে ৩ থেকে ১৮২ দিন মেয়াদি ধার নেয় ব্যাংকগুলো। এসব লেনদেনে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ উঠেছে। এর মধ্যে আন্তঃব্যাংকে আরও বেশি সুদ উঠেছিল। তবে মৌখিক নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও কোনো ব্যাংক ৯ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। 

আন্তঃব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিনিয়ত ধার করে চলছে ব্যাংকগুলো।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা