× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নগদ টাকা ছাড়াই পশু কেনাবেচা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ১৫:১১ পিএম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩ ১৬:৫৫ পিএম

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে স্মার্টহাট কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রবা ফটো

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে স্মার্টহাট কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রবা ফটো

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট। এরই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ১০টি হাটে চলছে স্মার্ট পেমেন্ট কর্মসূচি। 

যার মাধ্যমে নগদ টাকা ছাড়াই কোরবানির পশু কেনাবেচা করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। এতে কমে এসেছে নগদ টাকা বহন ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি। 

এ বিষয়ে উত্তরা দিয়াবাড়ির স্মার্টহাটের ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধি দীপক চন্দ্র দাস জানান, এ বছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে মোট ১০টি হাটে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ স্মার্টহাট’ কর্মসূচি চলছে। উত্তরা দিয়াবাড়ি স্মার্টহাট কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছে ব্র্যাক ব্যাংক। এটিএম বুথ এবং পস সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারছেন পশুর ক্রেতারা। অন্যদিকে পশু বিক্রির টাকা এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে পারছেন ব্যাপারীরা। এতে করে দুই পক্ষই উপকৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। কারণ কোনো পক্ষকেই মোটা অঙ্কের টাকা বহন করতে হচ্ছে না। নগদ টাকা ছাড়াই কেনাবেচা হচ্ছে কোরবানির পশু। 

তিনি আরও জানান, এটিএম ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়াও বিশেষ বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে পস মেশিনের ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যায়। অন্যদিকে গরুর ব্যাপারীদের জন্য রাখা হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুযোগ। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ জুন মোট ৪৯৩টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে পশুর হাটে। যেখানে ১ হাজার ১৫২ বারে ৫ কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসায় লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার লেনদেন আরও অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা।

রাজধানীর কমলাপুরে বসা অস্থায়ী পশুর হাটের জাল নোট শনাক্তকরণের দায়িত্বে আছে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স এবং এনআরবি ব্যাংক। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের ডাউনলোড শনাক্তকরণ প্রতিনিধি মো. শাহিন জানান, প্রতিনিয়তই গরু কেনাবেচা হচ্ছে এবং জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য আসছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাল নোট শনাক্ত হয়নি। নকল নোট শনাক্তকরণের এই প্রক্রিয়া চলবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত। কেনাবেচার চাপ কিছুটা কম থাকলেও আগামী দিনগুলোতে বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। তখন জাল নোট শনাক্তকরণ বুথগুলোতেও ব্যস্ততা বাড়তে পারে।

প্রতিবছর কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক পশু কেনাবেচায় বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। এর বেশিরভাগই সম্পন্ন হয় নগদ টাকায়। কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে ক্যাশলেস লেনদেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পশু কেনাবেচায় মোবাইল ফোন অথবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন যে কেউ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যেই ঢাকা উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করেছে।

দেশের লেনদেনব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটলেও স্বল্পমেয়াদি পশুর হাটের বিপুল পরিমাণ লেনদেনের অধিকাংশই নগদ অর্থে সংঘটিত হয়। ফলে একদিকে নগদ অর্থের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এবং ব্যাংক, এটিএমসমূহে অর্থ জোগান দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত নোট ছাপানো ও সরবরাহের প্রয়োজন হয়। 

অন্যদিকে নগদ অর্থের এই ব্যাপক লেনদেনের ফলে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমনÑ জাল টাকার বিস্তার, চুরি-ছিনতাই ইত্যাদি নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। ফলে এই সময়ে পশু ক্রেতা-বিক্রেতার অর্থের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং জাল টাকা শনাক্তকরণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ২০২২ সালে কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক ঢাকায় অবস্থিত ছয়টি পশুর হাটে লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেই পাইলট কার্যক্রমে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয়। সফলভাবে এই পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের কোরবানির পশুর হাটেও একই কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২২ সালের মতো ২০২৩ সালেও কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক কার্যক্রমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহায়তায় তৃণমূল পর্যায়ে পশু বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং আলোচ্য কার্যক্রমের বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের পশু খামারিদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হয়। 

এ লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে ২৬টি জেলায় (রাজবাড়ী শেরপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নড়াইল এবং সাতক্ষীরা) ১০টি ব্যাংক।  এগুলো হচ্ছে - ব্র্যাক, এবি, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন, আইএফআইসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, পূবালী, দি সিটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ইসলামী ব্যাংক।ও ৩টি এমএফএস প্রোভাইডার (বিকাশ, নগদ ও ইউপে) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

এসব জেলা থেকে পশু বিক্রেতাদের ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটে পশুসহ আসার আগে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাব (পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট) খোলা, তাৎক্ষণিক ব্যক্তিক রিটেইল হিসাব খোলার লক্ষ্যে হাটসমূহে আগত পশু বিক্রেতাদের এবং তাদের নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সঙ্গে রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পশু বিক্রেতাদের অর্জিত সুবিধাসমূহ ইত্যাদি বর্ণিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ।

স্মার্ট কোরবানির হাট কার্যক্রমের পরিকল্পনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আটটি হাট এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দুটি হাটে বিভিন্ন পেমেন্ট স্কিম প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (ভিসা, মাস্টারকার্ড এবং এমেক্স) সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি করে ডিজিটাল পেমেন্ট বুথ স্থাপিত হবে, যেখানে ব্যাংক এবং এমএফএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ডিজিটাল লেনদেনের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবেন। 

ওই হাটগুলোতে পশু ক্রেতা ও বিক্রেতারা আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, এমএফএস, মোবাইল ফোনে ব্যবহার্য অ্যাপলিকেশন, বিশেষভাবে বাংলা কিউআর) পরিচালনার সুযোগ পাবেন যা নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি, নকল ছেঁড়া/ফাটা নোটসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর যেসব হাটে স্মার্ট পেমেন্ট কর্মসূচি চালু রয়েছে সেগুলো হলোÑ উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নং সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার, ভাটারা (সাইদনগর), কাওলা শিয়ালডাঙ্গা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর বছিলা, গাবতলী, মিরপুর সেকশন-৬ ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা