× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

একনেক ফেরত নিট প্রকল্পের খরচ কমল ৫৪৬ কোটি টাকা

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১১:৪০ এএম

একনেক ফেরত নিট প্রকল্পের খরচ কমল ৫৪৬ কোটি টাকা

দেশের অশিক্ষিত জনশক্তিকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির নিট (নো এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং) প্রকল্প ফের একনেকে তোলা হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস ভবন ও ভিআইপি হোস্টেল নির্মাণ বাদ যাওয়ায় প্রকল্পটির খরচ কমছে ৫৪৬ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি আগামী মঙ্গলবার ৩ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা খরচে অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলার জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক ঋণের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় এর আগে একনেক সভা থেকে প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয় এবং প্রকল্পের আওতায় অফিস ভবন ও ভিআইপি হোস্টেল নির্মাণ বাদ দেওয়ার জন্য বলা হয়।

জানা গেছে, আগের একনেক সভায় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমা বেগম প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে বলেন, ‘প্রকল্পে প্রাথমিক আলোচনায় ৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রকল্প সহায়তা প্রদানের কথা ছিল। তবে বর্তমানে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রকল্প সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া অর্থায়নের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান বলেন, ‘প্রকল্পে ৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার কথা থাকলেও এখন ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা প্রদানের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আশ্বস্ত করেছে। মূল্যায়ন চলছে নেগোসিয়েশন এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং ড্রাফট অ্যাগ্রিমেন্টও করা হয় নাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখনও নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, তাই এ মুহূর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন করা সমীচীন হবে না।

এ সময় একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে এখনও নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়নি, তাই নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করে সে আলোকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরবর্তীতে উপস্থাপন করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থার বিদ্যমান প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভবন ব্যবহার করতে হবে এবং আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের সংস্থান বাদ দিতে হবে। ভবিষ্যতে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করে প্রকল্প গ্রহণের জন্য তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়, গ্রামীণ অঞ্চলে মহিলাদের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিপূর্বক অধিকতর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। ২০৩০ সালের মধ্যে অগ্রাধিকার খাতে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করে অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি জুন ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় দেখা যায়, ৬৬ জনের বিদেশ প্রশিক্ষণে চাওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ একেকজনের বিদেশ প্রশিক্ষণে লাগছে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। এদিকে দেশে ১ লাখ ১২ হাজার ১৬ জনের প্রশিক্ষণে খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ একেকজনের পেছনে খরচ পড়ছে ৭৩৩৪ টাকা। এ ছাড়া প্রকল্পটিতে ৬০ মাস সেবাপ্রদানকারী সংস্থা বা এনজিও পরামর্শকে খরচ হবে ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পের মূল কাজ হচ্ছে, নির্বাচিত উপজেলাসমূহ থেকে যোগ্য নিট জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করে দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান। প্রাসঙ্গিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধির আওতায় ৭ লাখ যুবক ও যুব মহিলাকে প্রশিক্ষণ এবং ১ লাখ ড্রপআউট শিক্ষার্থীকে শিক্ষা কার্যক্রমে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ প্রদান করা। স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য সমর্থন প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ যুবক ও যুব মহিলার জন্য শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ৫০ হাজার সুবিধাভোগীর জন্য সিও ফিন্যান্সিংয়ের সুযোগ এবং চাকরি মেলার আয়োজন করা। উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা, ২৫০টি যুব ক্লাবের মাধ্যমে নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করা।

এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আওতায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের আইটি সিস্টেমের ব্যবহার ও সফ্টওয়্যার স্থাপন। দীর্ঘমেয়াদে যুব উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর সার্ভে, গবেষণা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পাদন করা।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের স্কাইসোয়াম উইংয়ের যুগ্মপ্রধান আশরাফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পটিতে বৈদেশিক সহায়তা কিছুটা কমেছে, যার কারণে কয়েকটি খাতে খরচ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ বাদ দেওয়া হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা