প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১৩:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ১৩:৪০ পিএম
শুধু অর্থ পাচারের কারণে সরকার প্রতিবছর ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ক্রিস্টিয়ান এইড বাংলাদেশ এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা : প্রয়োজনয়ীতা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংস্থা দুটি এ দাবি করে।
আলোচনায় উঠে আসে জটিল কর ব্যবস্থা, হয়রানি ও অদক্ষতার কারণে আয়কর প্রদান এবং কর ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের ভয় ও অসন্তোষ রয়েছে। এতে কম রাজস্ব সংগ্রহ হয়, যা প্রতিবছরের বাজেট ঘাটতিতে পরিণত হচ্ছে। এই বাজেট ঘাটতি সরকারকে সামাজিক খাত, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনে বাধা হিসেবে কাজ করে।
সভায় পাঁচটি সুপারিশের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানায় ক্রিস্টিয়ান এইড এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন। বলা হয়, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক কর ব্যবস্থার বিষয়ে জ্ঞান-দক্ষতা এবং সচেতনতা ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। কর আদায় প্রক্রিয়ায় একটি উন্নত ও দরিদ্রবান্ধব কর ব্যবস্থার প্রবর্তন করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে দরিদ্র নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে সরকারের উচিত ভ্যাট কমিয়ে ট্যাক্সের অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।
এ ছাড়া ট্যাক্স রিটার্ন পদ্ধতি নাগরিকদের জন্য সহজ করা এবং ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। করদান উৎসাহিত করতে নিয়মিত করদাতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার থাকা দরকার রয়েছে।
এ সময়ে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, মহসিন আলী বলেন, ‘প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে। ভ্যাট কমিয়ে আনতে হবে। করজালের আওতা অবশ্যই বাড়াতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
আলোচনায় বিসিএস (কর) একাডেমির মহাপরিচালক, এমএম ফজলুল হক বলেন, ‘করজাল বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে এনবিআর। কর দেওয়ার মানসিকতা সবার তৈরি করতে হবে। তবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে দেশে কর আহরণ বাড়বে বলে আশা করছি।’
সভায় এনবিআরের সাবেক সদস্য ড. সৈয়দ মো. আমিনুল করিম, ক্রিস্টিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।