শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ১৭:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ১৭:৪৯ পিএম
তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যার কাজ করছেন একজন কৃষক। প্রবা ফটো
গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের চাষিরা। শখের বশে তরমুজ চাষ করে অনেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে বাজারে এই পানিজাতীয় ফলটির বেশ চাহিদাও রয়েছে। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কম খরচ ও পরিশ্রমে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। অন্যদিকে তরমুজের ক্ষেত দেখতে এবং পরামর্শ নিতে ছুটে আসছেন আশপাশের চাষিরা।
কৃষি বিভাগের পাশাপাশি এই তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করছে মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্রÑএমবিএসকে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
উত্তরের শস্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে যখন জমিতে ধান আর বাগানে লিচু দোল খাচ্ছে, তখন পাশেই মাচায় সবুজ পাতা আর মাচার নিচে ঝুলে আছে কালো ও হলুদ রঙের তরমুজ। পোকামাকড় আর বালাইনাশকে ব্যবহার করা হচ্ছে ইয়োলো স্টিকি পেপার ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ। এমন দৃশ্য দিনাজপুর সদর উপজেলার দিঘন পশ্চিম পাড়া এলাকার।
এ বছর কৃষক আইনুল ইসলাম শখের বশে চাষ করেছেন তরমুজ। দুই বিঘা জমিতে ব্ল্যাক বেবী, মধুমালা ও সুগার কিং জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছেন। কম খরচ ও পরিশ্রমে তরমুজ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি।
কৃষক আইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ জমিতে আগে বোরো ধান, আলু ও পটোলের আবাদ করা হতো। এই দুই বিঘা জমিতে এবার শখের বশে ব্ল্যাক বেবী, মধুমালা ও সুগার কিং জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছি। কম খরচ ও কম পরিশ্রমে তরমুজ চাষ করে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। আমার ক্ষেতের প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় দেড় থেকে চার কেজি। ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকার তরমুজ পাব আশা করছি।’
গাছ থেকে যাতে ছিঁড়ে না পড়ে সেজন্য প্রতিটি তরমুজে দেওয়া আছে জালি। তরমুজের ওপরের রঙ হলুদ আর কালো হলেও ভেতরে টকটকে লাল। এই তরমুজের ক্ষেত দেখতে এবং পরামর্শ নিতে ছুটে আসছেন আশপাশের চাষিরা। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসা কৃষক রায়হান বলেন, ‘এই সিজনে এত তরমুজ দেখে আমরা অভিভূত। দেখলাম, এই গরমে তরমুজের চাহিদা থাকায় পাইকাররাও ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ফসল বিক্রি করতে যে ঝামেলা, তা তরমুজের ক্ষেত্রে নেই। তাই আগাম এই লাভজনক ফসল আমিও আবাদ করতে চাই।’
এমবিএসকের কৃষিবিদ হোসেন মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমরা এ জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করে আসছি। এ ফসল চাষ করে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে এই পানিজাতীয় ফলটির বাজারে বেশ চাহিদাও থাকায় ক্ষেত থেকে তরমুজ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন কৃষক।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ জাতের তরমুজ চাষে গাছ লাগানোর ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফল ওঠানো শুরু হয়। আড়াই মাসের ব্যবধানে এ তরমুজ আবাদে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি কৃষকের লাভ থাকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। স্বল্প সময়ে এবং কম পরিশ্রমে এ জাতের তরমুজ আবাদ করে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক। আমরা এ জাতের তরমুজ চাষে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছি। শুধু কৃষক আইনুল নন, দিনাজপুরে প্রায় অর্ধশত কৃষক এখন এ জাতের তরমুজ আবাদ করছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এ তরমুজ চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। জেলার প্রায় ৫৮ একর জমিতে চাষ হয়েছে এ জাতের তরমুজ।’