× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আশার আলো নেই ইএফডিতে

জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ১৪:৩০ পিএম

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩ ১৪:৩২ পিএম

আশার আলো নেই ইএফডিতে

খুচরা ব্যবসা থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট নিশ্চিত করা এবং ফাঁকি রোধে ২০১৯ সালের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঁচটি ভ্যাট কমিশনারেটে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। গত বছর জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করলেও এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি। 

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব না দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া যেত। এ ছাড়া সবাইকে একসঙ্গে ইএফডির আওতায় না আনলে বৈষম্য তৈরি হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অনেক ব্যবসায়ী।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৪৯টি ইএফডি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মূসক নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৫টি। অথচ বিভিন্ন সময়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে কাজ চলমান আছে, দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছেÑ এমন ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ২০ হাজার মেশিন বসানোর লক্ষ্য রয়েছে। বড় বড় শহরের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশ ভালো এমন উপজেলা সদরের দোকানপাটেও আগামী পাঁচ বছরে ভ্যাটের মেশিন বসানো হবে।

তবে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ৬ হাজার ও বছর শেষে সর্বমোট ১০ হাজার দোকানে ইএফডি মেশিন বসানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। তবে সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পেরিয়ে গেলেও ২০২১ সালের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই এ লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা।

সবশেষ জেনেক্স ইনফোসিসের সঙ্গে চুক্তি করে এনবিআর আরেকটি নতুন উদ্যোগ হাতে নেয়। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ ইএফডি বসানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানে ইএফডি মেশিন বসাবে। বিনিময়ে প্রতি ১০০ টাকা ভ্যাটে ৫২ পয়সা কমিশন হিসেবে পাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনই করতে পারেনি রাজস্ব বোর্ড। 

সূত্র জানায়, চলতি মাসেই এর উদ্বোধন হতে পারে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বসানো হবে ২ হাজার ৫০০ ইএফডি মেশিন।

জেনেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ হাজারের মতো ইএফডি মেশিনের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) করা হয়েছে। তার মধ্যে তিন হাজার ইতোমধ্যে হাতে পৌঁছেছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। শিগগিরই উদ্বোধনের মাধ্যমে মেশিন বসানোর কাজ এগিয়ে যাবে।

জানতে চাইলে জেনেক্স ইনফোসিসের সেক্রেটারি মোস্তাক আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইএফডি মেশিনের কার্যক্রম চলছে। আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। এলসি হচ্ছে, আমরা মেশিন আনছি, এটা শিগগিরই উদ্বোধন হবে। আমাদের কাছে তিন হাজারের বেশি মেশিন আছে। এগুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন করতেও সময় লাগবে।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চলতি মাসেই জেনেক্সের সঙ্গে চুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনের সময় ২৫০টি মেশিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বসানো হবে।’

সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে ইএফডি কেনা, দোকানে বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণÑ পুরো প্রক্রিয়াটিকে জেনেক্সের হাতে তুলে দিয়ে ইএফডিতে সফল হতে চায় এনবিআর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তিন লাখ দোকানে ইএফডি মেশিন বসানোর পাশাপাশি সারাদেশে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান জেনেক্স ইনফোসিসকে।

এনবিআর কখনও লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না, এবারও পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, ‘আগে এনবিআর নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি এটা সত্য। তবে এর মানে এটা নয় যে কখনোই পারবে না। আমরা চিন্তা করছি সামনে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়। পেছনের ব্যর্থতা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আশা করা যায় সামনের দিকে সবকিছু ঠিকমতোই এগিয়ে যাবে।’

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইএফডি মেশিনে ২৬ লাখ ২৬টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রাজস্ব আহরিত হয়েছে। তবে একই বছরের এপ্রিলে ইনভয়েসের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ২৩ হাজারে, যা শতকরা হিসাবে ১৯ ভাগ কম। তবে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়। রাজস্ব বেড়েছে ৮ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হবে। যে দোকানে ইএফডি মেশিন থাকবে, সে শতভাগ ভ্যাট আদায় করবে। কিন্তু পাশের দোকানে ইএফডি মেশিন না থাকলে সে কিন্তু ভ্যাট ফাঁকি দেবে। ফলে যিনি ভ্যাট আদায় করছেন, তার দোকানে কাস্টমার আসবে না। তিনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি এই ইএফডি মেশিন ওপেন করে দেওয়া উচিত। শুধু একটি কোম্পানি (জেনেক্স) নয়, এমন অনেক কোম্পানিকে দেওয়া উচিত। তাহলে ইএফডি মেশিন বসানোর কার্যক্রম গতিশীল হবে, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং ভ্যাট ফাঁকি ও বৈষম্য কমবে।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এনবিআর সব ব্যবসায়ীকে একসঙ্গে মেশিন দিতে পারছে না। ফলে যাদের মেশিন দেওয়া হয়, তারা বিপদে পড়েন। ভ্যাট দিতে হয় তাই গ্রাহকরা তাদের দোকানে যেতে চান না। গ্রাহকরা তাদের পাশের মেশিনহীন দোকানে কেনাকাটা করেন। সবাইকে একসঙ্গে ইএফডি মেশিন দেওয়ার দাবি করেন তিনি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা