× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এনবিআরকে প্রবেশাধিকার দিয়েছে মাত্র ২০৯ প্রতিষ্ঠান

জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১৬:১২ পিএম

এনবিআরকে প্রবেশাধিকার দিয়েছে মাত্র ২০৯ প্রতিষ্ঠান

বড় অঙ্কের ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার পেতে ব্যাপক তোড়জোড় ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। উদ্দেশ্য, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। অথচ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট সফটওয়্যারের আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়ার তারিখ শেষ হয়েছে। কিন্তু এতেও সাড়া দেননি ব্যবসায়ীরা। ফলাফল, হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অদ্যাবধি এনবিআরকে আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়েছে মাত্র ২০৯টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে গত পাঁচ মাসে দিয়েছে ৪০টি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রদানের অনেকগুলো শর্তের মধ্যে অন্যতম একটি ছিলে অটোমেশন। তবে প্রকৃতপক্ষে অটোমেশন প্রক্রিয়ার ধারেকাছেও যেতে পারেনি রাজস্ব বোর্ড। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনাররা দীর্ঘদিন ধরে নানা পরামর্শ দিলেও কোনো কথা আমলে নেননি সংশ্লিষ্ট সদস্য। এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ বিস্তর।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২টি কমিশনারেটের আওতাধীন কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৬৯টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট সফটওয়্যারের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়েছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯-এ। সে হিসাবে পাঁচ মাসে আইডি-পাসওয়ার্ড হস্তান্তর করেছে মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠান।

এনবিআর সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ১২টি কমিশনারেটের ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমস, এক্সসাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের ৪৮টি, পশ্চিমের ৬৩টি, পূর্বের ১৯টি, উত্তরের ১৮টি, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) ভ্যাটের ৮টি, চট্টগ্রামের ১৩টি, রাজশাহীর ১৯টি, যশোরের ৬টি, রংপুরের ৩টি, কুমিল্লার ১টি, সিলেটের ১১টি ও খুলনার ৩টি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে।

শুরুতে আইডি-পাসওয়ার্ড ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল এনবিআর। অথচ এখন অনেকটা সুর নরম সংস্থাটির। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভিন্ন কোম্পানি ও কমিশনারেটের পক্ষ থেকে মেয়াদ বাড়াতে এনবিআরকে চিঠি দিলেও তার কোনো জবাব মেলেনি।

২০১৯ সালে এনবিআরের জারি করা এক আদেশ অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার পাঁচ কোটি টাকার বেশি, তাদের এনবিআর নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। এনবিআর নির্ধারিত ভেন্ডরের কাছ থেকে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অন্য কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে হিসাবপত্র সংরক্ষণ করতে চায়, তাহলে এনবিআর নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা মিটিয়ে অন্য সফটওয়্যারের অনুমোদন নিতে হবে।

এর পর অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এনবিআরকে সফটওয়্যারের অনুমোদন দিতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও আছেন আগের অবস্থানেই। নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়েছেন তারা। অন্যদিকে অটোমেশনের বিকল্প পথ খোলা নেই বলে মনে করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় আসা ছাড়া এনবিআরের কোনো উপায় নেই। কিন্তু ভ্যাট সফটওয়্যার বাস্তবায়ন ইস্যুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই পিছিয়ে আছে। স্বাভাবিকভাবেই এর মেয়াদ বাড়বে। কিন্তু কতদিন বাড়বে তা বলা যাচ্ছে না। আবার এনবিআরের অনুমোদিত ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও কিছু কারিগরি ত্রুটি আছে। সেগুলো সমাধান করতেও কিছুটা সময়ের দরকার।

অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা। জানতে চাইলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ তো আছেই। যেকোনো কোম্পানির পাসওয়ার্ড শুধুমাত্র সিএফও ছাড়া আর কেউ জানে না। সেখান থেকে তা অন্য কারও কাছে গেলে বা কোনো কোম্পানির কাছে গেলে আমাদের প্রাইভেসি নষ্ট হবে। মিটিংয়ে আমরা সেটা জানিয়েছি। পরে আমাদের জানানো হয়েছে, যে ধরনের কাজে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তেমন কোনো কাজ তারা করবেন না। চিঠির মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এর পর এ বিষয়ে আর কিছু জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিশনার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যেকোনো বড় দেশীয় কোম্পানি কিংবা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজস্ব এক বা একাধিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে। সেগুলো বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত। এনবিআরের যে ডেটাগুলো যেমন রিটার্ন সাবমিশন ও অডিটসহ তথ্যগুলো রাখতে হবে, সেজন্য লোকাল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ঠিক করেছে। ওই লোকাল সফটওয়্যারের সঙ্গে ডেটাগুলো ইন্ট্রিগেশন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ইন্ট্রিগেশন হয় না। ওদের যে সফটওয়্যার, সেটার সঙ্গে লোকাল কোম্পানির সফটওয়্যার ইন্ট্রিগেশন হয় না।

তিনি আরও বলেন, অটোমেশন করতে হবে, এটার কোনো বিকল্প নেই। অটোমেশন কোনো তিন পয়সা, চার পয়সা দিয়ে হয় না। এটা কমপ্রিহেনসিভ একটা জিনিস। অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারকে এখানে ইন্টিগ্রেট করতে হবে। যদি বাস্তবেই এনবিআর অটোমেশন চায়, তাহলে এই লোকাল সফটওয়্যার দিয়ে হবে না।

জানা গেছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাটনীতি) জাকিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকার তিনজন কমিশনার দেখা করেন। তখন এই সফটওয়্যারের অগ্রগতি জানাতে গিয়ে কমিশনাররা জানান, এনবিআরের অনুমোদিত সফটওয়্যারগুলো অনেক ধীরগতির, আস্তে আস্তে কাজ করে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে হয়তো আরও অনেক সময় লাগবে। তখন এনবিআরের ওই সদস্য কমিশনারদের এ বিষয়টি লিখিত আকারে দিতে বলেন কতদিন সময় লাগতে পারে? তখন কমিশনারদের পক্ষ থেকে একেকজন একেক রকম সময়ের কথা জানিয়েছিলেন। কেউ ছয় মাস, কেউ এক বছরের কথাও জানিয়েছিলেন। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এনবিআরের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা