× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শেয়ার কারসাজিকারীদের তথ্য গোপন বিএসইসির

আনিছুর রহমান

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩ ১০:১৪ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

২০২০ সালে বীমা খাতের প্রায় সব শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তদন্ত করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বীমা কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের শেয়ার কারসাজির দায়ে কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেয় বিএসইসি। এই নির্দেশনার স্মারক নম্বর ছিল- বিএসইসি/এনফোর্সমেন্ট/৩১৩৯/২০২১/২০।

নির্দেশনায় দেখা যায়, ওই বীমা কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়াকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই চিঠিতে শেয়ার কারসাজিতে সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ অনেকের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, বিএসইসির ওয়েবসাইটে ডিসেম্বরভিত্তিক এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন তালিকায় সাদিয়াসহ বাকিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। অথচ ওই মাসে অন্য আরও ৯৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, বিএসইসির দায়িত্ব সুশাসন নিশ্চিত করা। যারাই কারসাজি করবে তাদের সবার নামই প্রকাশ করা উচিত। কারা প্রভাবশালী, কারা নয়, তা বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, শুধুই প্রকাশ করছে না তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখছি সঠিক সময়ে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরও অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিএসইসির মাসিক এনফোর্সমেন্ট তালিকায় দেখা মিলছে না কোনো ধরনের অর্থদণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন। শুধু সতর্কীকরণের নির্দেশনাগুলো ওয়েবসাইটে দেখা মিলছে। অর্থাৎ চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকে অনিয়ম ও কারসাজির বিপরীতে সতর্কীকরণের নির্দেশনাটি প্রকাশ করলেও অর্থদণ্ডের বিষয়টি আর ওয়েবসাইটে দেওয়া হচ্ছে না।

হিসাব বলছে, গত তিন মাসে ৪৭টি এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনের নির্দেশনা প্রকাশ করলেও এর মধ্যে ছিল না কোনো অর্থদণ্ডের নির্দেশনা। বিএসইসি সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে হয়তো কাউকে অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও তা গোপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন নেওয়া হলে তা একসঙ্গে মাসভিত্তিক হিসেবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে হয়তো কাউকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়নি অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে দায়ী ব্যক্তিরা আপিল করেছেন। আপিল করলে বিষয়টি বিচারাধীন হয়ে যায়। তাই হয়তো এ ধরনের নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যদি কারসাজির দায়ে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে তবে তা ভালোভাবেই প্রকাশ করা উচিত। শুধু তাই না শাস্তির পরিমাণটিও যেন অপরাধের বিবেচনায় বড় রকমেরই হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

গত বছর নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনের যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনে ছিল না কোনো ধরনের অর্থদণ্ডের বিষয়। আর ছয় মাসের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে মোট ৫২টি এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তার মধ্যে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ৭ জন ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

একইভাবে এর পরের মাস ডিসেম্বরে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১টি প্রতিষ্ঠান ও ১ জন ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ১০৭টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন নেওয়ার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ৮ জন ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির পর থেকে গত তিন মাসের যে এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সতর্কীকরণ ছাড়া কোনো অর্থদণ্ডের বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার কারসাজিকারীদের নাম না প্রকাশের অংশ হিসেবেই অর্থদণ্ডের নির্দেশনাগুলো ওয়েবসাইটে আপলোড করছে না বিএসইসি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৮টি, মার্চ মাসে ১৩টি এবং এপ্রিল মাসে ২৬টি এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন নেওয়ার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ছিল অনিয়মকারীদের সতর্ক করার নির্দেশনা। কিন্তু এই তিন মাসে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়ার নির্দেশনা দেখা যায়নি। 

উল্লেখ্য, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কারসাজি তদন্তে নতুন গতি পায়। ফলে অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে কয়েক বছর আগের অনিয়মের শাস্তিও দেয় বিএসইসি। এই ধারাবাহিকতায় ২০২০ ও ২০২১ সালে আবুল খায়ের হিরু, সাইফ উল্লাহসহ বড় বড় বিনিয়োগকারীদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আর্থিক দণ্ডের পরিমাণ নিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা ছিল।

কয়েক বছর আগেও পুঁজিবাজারে কারসাজি বা অনিয়মের দায়ে অর্থদণ্ডের নির্দেশনাটি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশ করত বিএসইসি। কিন্তু সেটি বন্ধ করে মাসভিত্তিক এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনগুলো প্রকাশ করতে শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা