প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৩ ১৯:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জনশুমারির তথ্যের আলোকে দেশের ১২ হাজার ৪০টি নির্বাচিত নমুনা এলাকায় আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩ পরিচালনা করছে বিবিএস। শুমারির আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী মূল শুমারির অব্যবহিত পরে অর্থাৎ ২১ মে থেকে ১৫ জুন ২০২৩ সময়ে দেশব্যপী প্রায় ৩ লাখ ১টি খানার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ জরিপের প্রশ্নপত্রে ১৩টি বিষয়ভিত্তিক মডিউলের (খানার পরিচিতি, গৃহ, খানা, ব্যক্তি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যাংকিং সুবিধা, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, বিদেশ ফেরত সদস্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং খানার পরিসম্পদসংক্রান্ত) আওতায় ১২১টি প্রশ্নের মাধ্যমে মোট ১৯৪টি সূচকের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হলদিয়া এলাকায় এ জরিপের কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একদল গণনাকারী আলআমিন নামে একজনের কাছ থেকে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে। যেমন খানার (যারা এক পাতিলে রান্না খায়) আকার, কেউ বিদেশে থাকে কি না, খানার আয়ের উৎস, বিবাহ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন ইত্যাদি।
হলদিয়া ইউনিয়নে নিযুক্ত গণনাকারী মাহফুজুর রহমান বাসায় বাসায় গিয়ে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩-এর তথ্য সংগ্রহ করছি। ১২১টি প্রশ্নের মাধ্যমে ১৯৪টি সূচকের তথ্য নিচ্ছি। মানুষ সহজেই আমাদের কাজে সহযোগিতা করছে। সবার সহযোগিতায় আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছি।
সহজে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয়দের গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে কৌশলে রেমিট্যান্স ও জমিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন বিবিএস কর্মকর্তারা।
বিবিএসের উপপরিচালক (মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সবার সহযোগিতায় দারুণভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে রেমিট্যান্স ও জমিসংক্রান্ত তথ্য অনেকে দিতে চান না, আমরা কৌশলে সংগ্রহ করছি। অনেকে মনে করেন জমি ও রেমিট্যান্সের তথ্য দিলে কর দিতে হবে।
মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় বিবিএস কর্মকর্তা অনামিকা জানান, জরিপের তথ্য সংগ্রহ করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। তবে দুয়েক স্থানে বাধার সম্মূখীন হতে হয়েছে। এখন প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় তারা জরিপের কাজ করছেন।
আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপের উদ্দেশ্য তুলে ধরে শুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রমাণকনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও গবেষণাকাজে বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও জনমিতিক সূচকের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত মিলবে এ জরিপ থেকে। এ জরিপের অগ্রগতি ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবারের জরিপটি ডিজিটাল হওয়ায় প্রায় শতভাগ নির্ভুল তথ্য পাওয়ার আশা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, এ জরিপে ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবলেট ব্যবহার করে কম্পিউটার অ্যাসিসটেড পার্সনাল ইন্টারভিউইং পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা নির্ধারিত এলাকায় দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচিত খানাগুলোয় উপস্থিত হয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
জরিপটি সফলভাবে সম্পাদন ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট খানার খানাপ্রধানসহ সব সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। এ-বিষয়ক কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে উপজেলা সুপারভাইজিং কর্মকর্তা, জেলা সুপারভাইজিং কর্মকর্তা অথবা বিভাগীয় সুপারভাইজিং কর্মকর্তারা যোগাযোগ করছেন।
এদিকে বিবিএসের হেড অফিস ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যকে আরও গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন আরও ১৪০ জন। মাঠের সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্ভুল করাই এসব বিবিএস জনবলের কাজ।