প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ২১:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অভিবাসনের মাধ্যমে দেশের শ্রম বাজারের শূন্যতা পূরণ করে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমাতে পারে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ। এ বিষয়ে সংস্থাটির ডেপুটি হেড গীতা গোপীনাথ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। এখানে যদি এখন দক্ষ কর্মী আসে তাহলে এর সুবিধা পাবে দেশটি।’
যুক্তরাজ্যে এমনিতেই বৈধ অভিবাসনের হার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে অর্থনীতির প্রয়োজনে অভিবাসন নীতি নমনীয় হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। এদিকে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স অনুসারে, নেট মাইগ্রেশন (দেশে প্রবেশকারী লোকের সংখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি চলে যাওয়া লোকের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য) ২০২২ সালে রেকর্ড স্তরে পৌঁছে ৬ লাখ ৬ হাজারে পৌঁছেছে।
তবে দেশটির সার্বিক মূল্যস্ফীতির পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় গত এপ্রিলে কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে এখনও মূল মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৬ দশমিক ৮ শতাংশে রয়েছে। যা উন্নত সাতটি দেশের সংগঠন জি-৭ এর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় দক্ষ কর্মী মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমাতে পারে উল্লেখ করে গীতা গোপীনাথ বলেন, ‘যেহেতু এখন মূল্যস্ফীতির পরিমাণ বেশি, এই প্রেক্ষাপটে আমরা এ মুহূর্তে কয়েকটি খাতে ঘাটতি পূরণ করতে পারে এমন কর্মী পেলে তা মূল্যস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে। সুতরাং আমি মনে করি শ্রমিকদের দেশে আসার সুযোগ দিলে এর সুবিধা যুক্তরাজ্য পাবে।’
এদিকে দেশটির সর্বশেষ সরকারী পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে তিন মাসে যুক্তরাজ্যে ১০ লাখের বেশি শূন্যপদ তৈরি হয়েছে। এ সময় সর্বোচ্চসংখ্যক পদ খালি হয়েছে আবাসন ও খাদ্য খাতে, যার পরিমাণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও সামাজিক কাজ সংশ্লিষ্ট খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পেশাদার বৈজ্ঞানিক কাজে শূন্যপদের পরিমাণ ৪ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা যুক্তরাজ্যের কঠোর শ্রমবাজারকে চিহ্নিত করেছেন। ব্রেক্সিট ও কোভিড মহামারির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মীদের প্রবাহের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতিকেও দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার দেখে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাসে জানিয়েছিলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড পূর্বের চেয়ে বেশি পরিমাণে সুদের হার বাড়াবে। সুদের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছবে।
যুক্তরাজ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়ে গীতা গোপীনাথ বলেন, ‘উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে।’
এ দিকে ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে পড়বে বলে ২০১৮ সালেই সতর্ক করেছিল আইএমএফ। এ বিষয়ে সংস্থাটির এ ডেপুটি হেড বলেন, ‘আইএমএফ তার ২০১৮ সালের পূর্বাভাসে জানিয়েছিল ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেবে। জিডিপি বৃদ্ধির পরিমাণ ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নেমে আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বিনিয়োগ দুর্বল হয়েছে। শ্রমবাজারের সক্ষমতা হ্রাস কমে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যের তীব্রতাও কমে গেছে। এ সমস্ত কারণগুলো দেশটির দুর্বল অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে।’
এদিকে এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি বিভাগ বলছে, ‘যুক্তরাজ্য সীমাহীন অদক্ষ অভিবাসনের পুরোনো মডেল থেকে সরে এসেছে। আমাদের কাছে এখন একটি পয়েন্টভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। যা ব্রিটিশ জনগণকে দেশের সীমানার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। এমনকি এটি আমাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।’
সূত্র : বিবিসি