এম আর মাসফি
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ১৪:৪৯ পিএম
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হলেও ১১ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। ফের ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা খরচ বাড়িয়ে জুন ২০২৭ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
এখন বর্ধিত এই চার বছর মেয়াদে বাকি কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। যদিও প্রকল্পটি আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রস্তাবনা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) একনেক সভায় ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ জুলাই ২০১২ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ মেয়াদে অনুমোদিত হয়।
মূল প্রকল্প অনুমোদনের সময় রেললাইন, ব্রিজ, সিগন্যালিং সুবিধার বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়নি। বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে পরামর্শক সেবার সংস্থান রেখে প্রকল্প শুরুর দুই বছর পর ১ হাজার ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়।
এরপর প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগ করে নকশা ও বিস্তারিত ক্রয় পদ্ধতি চূড়ান্ত করে দরপত্র আহ্বান করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় পার হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শুরুর ৮১ মাস পর জয়দেবপুর-টঙ্গী অংশে ভৌতকাজ শুরু হয়। এরপর কোডিড-১৯-এর কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
এদিকে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রেললাইনের ওপর দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। তাই ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন পর্যন্ত সাইট প্রকল্প কর্তৃপক্ষ রেলওয়েকে হস্তান্তর করা হয়নি। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ জুন ২০২৪-এর মধ্যে রেলওয়ের সাইট হস্তান্তরিত করবে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত হস্তান্তর করলে কাজ শুরু করা যাবে এবং এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সিগন্যালিংসহ কাজ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হবে। এরপর এক বছরের ডিফেক্ট মায়াবিলিটি পিরিয়ড ডিসেম্বর ২০২৬ নাগাদ সমাপ্ত হবে। এরপর ফাইনাল পেমেন্ট, ওপেন লাইনের কাছে প্রকল্পের অবকাঠামো ও অ্যাসেট হস্তান্তর এবং পিসিআর দাখিলের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ২ হাজার ৮২১ কোটি টাকা।
যেখানে ১১ বছরেও ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ লাইনের কাজ শেষ হয়নি, সেটা আগামী চার বছরে সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯ সালে। এ সময়ে ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি কাজ হয়ে গেছে। এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য সেখানে কাজ করা যাচ্ছে না। তারা ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করলে আমরা ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’
প্রকল্পটিতে সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য আমরাই প্রকল্পের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। নতুন যে সময় দেওয়া হয়েছে, আশা করছি সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৮২১ কোটি টাকা প্রথম ও তৃতীয় এলওসির আওতায় দিচ্ছে ভারত। বাকি ৫২১ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৮ শতাংশ। খরচ হয়েছে ৮১৭ কোটি টাকা।
এ প্রকল্প নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঢাকা-টঙ্গী এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনের লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করে অধিকসংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের সব মেজর করিডোরে চলাচলকারী ইন্টারসিটি ট্রেন, মালবাহী ট্রেন ও কন্টেইনার ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। দৈনিক যাত্রীদের জন্য কমিউটার/সিটি ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং এর ফলে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নগর পরিবহন উন্নত করা। লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। ট্রেনভেদে মাত্রা সময় ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা হ্রাস করা এবং রেলওয়ে স্টেশনসমূহে উন্নততর যাত্রী সুবিধাদি প্রদান করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।