মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ১৫:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চা-শিল্প টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রবিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা-দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চা-শিল্পে অবদানের জন্য আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
টিপু মুনশি বলেন, ‘চা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানীয়। এই উপমহাদেশে চা-শিল্পের শুরু মূলত ব্রিটিশদের মাধ্যমে। তারা এখানে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে চা-ব্যবসা শুরু করে। বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম সিলেটে ১৮৫৪ সালে এটির বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়। তারপর এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে চা-শিল্প বিকশিত হয়।’
মালিক-শ্রমিকদের ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই চা-শিল্পটা আমাদের আরও বাড়ুক। আমাদের দেশের মানুষ চায়ের নেশায় অনেকটা আসক্ত। ১৭ কোটি মানুষ আমরা আর প্রতিদিন ১৭ কোটির অধিক কাপ চা পান করি। কারও দুই কাপ, কারও তিন কাপ, কারও পাঁচ কাপ চা না হলে যেন চলেই না। চা আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা ছাড়া আমরা চিন্তা করতে পারি না। সর্বোচ্চ পানীয় হিসেবে চা আমাদের দেশে প্রচলিত। চা-শিল্পের উন্নয়নে এ শিল্পের মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকমত্যের বিকল্প নেই।’
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনকের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চা-শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক বছর ধরে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে চা-শিল্পাঞ্চলে ঝামেলা চলছিল। সেটাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বসে থেকে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি এককভাবে বাগান মালিকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন ১২০ টাকা থেকে শ্রমিকদের দৈনিক নিম্নতম মজুরি ১৭০ টাকা দিতেই হবে। তিনি চা-শ্রমিকদের কল্যাণে আরও নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
চা-শিল্পে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকাকালে চা-শিল্পের উন্নয়নে নানান উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার সেসব যুগান্তকারী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। এর পাশাপাশি চা-শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেসব বাস্তবায়নের ফলে এ শিল্প এখন টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’
এতে আরও বক্তব্য দেন সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি-এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
জাতীয় চা পুরস্কার
চা-শিল্পে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবারের মতো এবার জাতীয় চা দিবসে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠানে আট ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা-বাগান হিসেবে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগান, সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা-বাগান, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী ব্যক্তি পঞ্চগড়ের নারায়ণপুর গ্রামের আনোয়ার সাদাত সম্রাট, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা-বাগান শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা-বাগান, বৈচিত্র্যময় চা-পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (চা-শ্রমিক) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগানের উপলক্ষ্মী ত্রিপুরা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার, ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার ও এবার তৃতীয়বারের মতো দিবসটি উদযাপিত হয়।
উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৪ জুন চা বোর্ডের বাঙালি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। চা-শিল্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর যোগদানের তারিখকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২০ সালের ২০ জুলাই মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ ঘোষণা করা হয়।