আসিফ শওকত কল্লোল
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে কিউবায় তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং পাটের ফাইবার রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কিউবার সাত হাজারের বেশি নিবন্ধিত নতুন কোম্পানির সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের দুয়ার খুলে যাবে।
এর আগে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সঙ্গে কিউবার বাণিজ্যের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। কিউবায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষকে সম্প্রতি কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. খলিলুর রহমান এক চিঠিতে জানিয়েছেন।
চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে কিউবা।
তারা এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করতে সিনিয়র বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।
গত মাসে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ড. খলিলুর রহমান কিউবার রাজধানী হাভানায় প্রেসিডেন্ট বার্মুদেজের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। তখন কিউবার ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করছেন। এ আলোচনায় বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে দুই ধরনের বাণিজ্য বাড়ানো বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রচারের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে কিউবান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। তখন বাংলাদেশের রাষ্টদূত বাংলাদেশ ও কিউবার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কিউবার বাজারে বাংলাদেশি পাটের ফাইবার রপ্তানির জন্য একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে কারণ কিউবা শিগগিরই পাটের ফাইবার প্রক্রিয়াকরণের জন্য দুটি বড় পাটকলের কার্যক্রম শুরু করবে, যার ফলে কিউবাতে পাটের ফাইবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কানাডার বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইতোমধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশের জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কিউবায় নতুন বিনিয়োগ অ্যাক্টের আওতায় সাত হাজারের বেশি নতুন কোম্পানি নিবন্ধন নিয়েছে। তারা দেশের ভেতরে এবং বিদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশের সমপর্যায়ের দেশগুলোর কোম্পানির সঙ্গে টু ওয়ে ট্রেড করতে পারবে।
সফরকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কিউবায় বাংলাদেশি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সিমেপ্স এবং কারাকলসহ কিউবার বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন। কোম্পানিগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সম্ভাব্য বাণিজ্য সুযোগ অন্বেষণে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশি আরএমজি ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত জাতিসংঘের ডেটাবেজ অনুসারে, ২০১৫ সালে কিউবায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরুপায় হয়ে কিউবার সঙ্গে পাটজাত পণ্য রপ্তানির সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। যদিও সে কারণে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর হাভানা ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপড়েন হতে দেননি। পাটজাত পণ্য বিক্রি করে কিউবার কাছ থেকে সে সময় ৫০ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সে সময় কলকাঠি নেড়েছিলেন। তার অপছন্দের তালিকায় থাকা মানুষের মধ্যে মুজিব যেমন, তেমনি ক্যাস্ত্রো। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে মার্কিন আপত্তির অপ্রত্যাশিত বার্তাটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছেছিল ২৭ মে ১৯৭৪ সালে। কিসিঞ্জারের সই করা তারবার্তায় দেখা যায়, অবজারভার পত্রিকার ৪ মের রিপোর্ট থেকে তারা জানতে পারে, বাংলাদেশ কিউবায় পাট ও পাটের থলে রপ্তানি করছে। আর মার্কিন খাদ্যসহায়তা-সংক্রান্ত পিএল-৪৮০ আইন বলেছে, যারা কিউবার সঙ্গে ব্যবসা করে, তারা মার্কিন খাদ্যসহায়তা পাবে না। কিউবায় পাট রপ্তানি দেশের ইতিহাসের একটা বিশেষ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।