প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস ও ইকোনমিক্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী আলোচনা : ২০২৩-২৪ অর্থবছর’ শীর্ষক আলোচনা সভা। প্রবা ফটো
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, এটার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব নেই। মুদ্রাস্ফীতি কমানো, প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক রিজার্ভ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, তারও কোনো উত্তর নেই। তাই এটাকে ভালো বাজেট বলা যাবে না।
শনিবার (৩ জুন) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস ও ইকোনমিক্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী আলোচনা : ২০২৩-২৪ অর্থবছর’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব বলেন বক্তারা। এ আলোচনায় অংশ নেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম এবং চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
আলেচনার শুরুতে ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এটিকে বিরাট আকারে বাজেট বলব না। এখানে আলোচনার মূল বিষয় হলো, বাজেটে যেসব সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হয়েছে সেগুলা অর্জনযোগ্য কি না, সেটাই প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কিন্তু ২০২৩ সালে এসে তা ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এবারও মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটা কীভাবে কমিয়ে ৬ শতাংশে আনা হবে, তার কোনো পরিকল্পনা বাজেট বক্তৃতায় পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দারিদ্র্যসীমার যে হিসাব দেয়া হয়েছে, তাও বাস্তবসম্মত নয়।’
কারণ বেসরকারি গবেষণার জরিপে দেখা গেছে, দারিদ্র্যের হার এখন ৩০ শতাংশে ওপরে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বাড়ানো উচিত ছিল। সরকার সেটা বাড়িয়েছে, তাই এ বিষয়ে সাধুবাদ প্রাপ্ত। কিন্তু এ টাকা কীভাবে খরচ হবে, এটা একটি বড় প্রশ্ন। এখানে কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এগুলো নজরদারি করা প্রয়োজন। কারণ এখানকার তহবিলের টাকাও নয়ছয় হয়।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ২১ শতাংশের ঘর থেকে ২৭ শতাংশের ঘরে নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এক বছরের ব্যবধানে ৬ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়ানো হবে, তার কোনো ব্যাখা দেওয়া হয়নি। তাই এ লক্ষ্যমাত্রাকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাজেট নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। কিন্তু যেখানে আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে হয় না। জাতীয় সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ বাজেট পাস হবে। কিছু বিষয় নিয়ে দুয়েকজন কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবেন কিন্তু দিনশেষে হ্যাঁ জয়যুক্তের মধ্য দিয়ে পাস হবে এ বাজেট। মানে প্রস্তাবিত বাজেটটিই পাস হয়ে গেছে বলা যায়। তাই বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তারা শুধু আয় ও খরচ বাড়বে কি না, এসব বিষয়ে চিন্তা করেন।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, আমাদের উন্নয়ন বাজেটে খালি প্রকল্প দেখা যায়। বতর্মানে এডিপি বাস্তবায়ন হয় টাকার হিসাবে। বাস্তবে অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাই বাজেটে দুয়েকটি বিষয় ছাড়া ভালো কিছু দেখছি না। এটাকে অনেকটাই জগাখিচুড়ি বাজেট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যাংক খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা রয়েছে, মূল্যস্ফীতির সমস্যা রয়েছে। এখানে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য না থাকলে জনগণের কোনো সুবিধা হবে না।’
বাজেট পেশের সময় নিয়ে কথা বলেন ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে বাজেট জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে হলে ভালো হতো।’
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটা কীভাবে পূরণ হবে তা স্পষ্ট নয়। কারণ দেশের অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বাজেটে পরোক্ষ করা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে ৮৮ লাখের মতো যে টিন নম্বর দেখা যায়, সত্যিকারার্থে এ সংখ্যাটা ঠিক নয়। কারণ খুব সহজে টিন নম্বর বাতিল করা যায় না। ফলে অনেক মৃত ব্যক্তি ও কোম্পানির টিন নম্বর এখনও রয়ে গেছে, যা হিসাবে থাকলেও বাস্তবে নেই।’