প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ২১:২৪ পিএম
প্রবা ফটো
এতদিন ধরে বিদেশি ঋণে সুদের ওপর ব্যবসায়ীরা কর অব্যাহতি পেলেও এবার তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ আরও বাড়বে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শনিবার (৩ জুন) মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) আলোচনা সভায় এ কথা বলেন সংগঠনটির পরিচালক আদিব এইচ খান।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কর যোগ হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এটা পাস হলে বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময় সুদের বিপরীতে কর দিতে হবে ব্যবসায়ীদের। এতে সুদের ওপর যে কর ধার্য হবে, বিদেশি ঋণদাতারা তা দেবেন না। সুদ কর ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়িয়ে দেবে।’
এই সুদহার কত হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘২০-৩০ শতাংশ হতে পারে। সরকার এখনও তা পরিষ্কার করেনি। নন-রেসিডেন্সিয়ালদের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে হারে কর দেওয়ার বিধান, তা এখানেও প্রযোজ্য হতে পারে।’
ঢাকার মতিঝিলে এমসিসিআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ফর্ম ভালনারিবিলিটি টু রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড র্যাপিড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এ আলোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথি ছিলেন।
সরকার এমন সময় বিদেশি ঋণের সুদের ওপর করারোপের প্রস্তাব করেছে, যখন বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদায় রয়েছে অর্থনীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বিদেশি ঋণ ছিল ৭ হাজার ১৯৩ কোটি ৬৪ লাখ কোটি ডলার। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ২১১ কোটি ২৯ লাখ ডলার আর দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৬ হাজার ৯৮২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। ব্সেরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার,0 যা মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৭৮৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা মোট বেসরকারি খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট বিদেশি ঋণের দায় গত ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬২৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।
বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা খাত হচ্ছে জ্বালানি খাত। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতের বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৫৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এর পরই উৎপাদন খাতে ২০৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, ট্রেডিংয়ে ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার ও ব্যাংকিংয়ে ১৩০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণের উৎসের শীর্ষ দেশ চীন থেকে এসেছে ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ ছাড়া হংকং থেকে ১০৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য থেকে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৯ দশমিক ৯১ কোটি ডলার, নেদারল্যান্ডস থেকে ৬৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ৬৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলার এবং জার্মানি থেকে ৩৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এসেছে।
আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেড়ে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৪৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যার মধ্যে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিট বিনিয়োগ ছিল ৬৬ কোটি ১১ লাখ ডলার।
এর পরই রয়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে চীনের ৪৬ কোটি ৫১ লাখ ডলার। ১১ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।