× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৩০০ টাকার জিরায় লাভ ৪৮০ টাকা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ১৩:৩২ পিএম

আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ১৩:৪৪ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গত ২৭ মার্চ ৩০ হাজার কেজি জিরা আমদানি করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এজাজ অ্যান্ড সন্স।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ওই জিরা আমদানির বিল অব এন্ট্রি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি কেজি জিরার ঘোষিত আমদানি মূল্য ছিল ১ দশমিক ৮৫ ডলার বা ২০০ টাকা (১ ডলার সমান ১০৮ টাকা হিসাবে)।

এগুলো ১ দশমিক ৮৫ ডলারেই শুল্কায়ন করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সে হিসাবে জিরার আমদানি মূল্য ছিল ২০০ টাকা। শুল্ককর পরিশোধের পর আমদানি করা এই জিরা এখন খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৭৮০ টাকায়!

আমদানি মূল্যের তিন গুণ বেশি দামে জিরা বিক্রি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। প্রতিষ্ঠানটির নেতারা বলছেন, সরকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে গেছেন। যে কারণে আমদানি মূল্যের দ্বিগুণ, তিন গুণ দামে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে আমদানিকারকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, কাগজে-কলমের চেয়ে বাস্তবে বেশি খরচ পড়ছে। স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করতে গেলে কিছু গোপন খরচ থাকে। শুল্ককরসহ ভালো মানের প্রতি কেজি জিরা আমদানিতে খরচ পড়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। 

কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, জিরা আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক, রাজস্ব শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট সব মিলিয়ে ৫৩ শতাংশ শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়। সেই হিসাবে প্রতি কেজি জিরার পেছনে শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়েছে ১০৬ টাকা। অর্থাৎ এক কেজি জিরা আমদানিতে খরচ পড়েছে ৩০৬ টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জের একাধিক মসলার আড়তে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই জিরাই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৭০-৭৮০ টাকা। এ ছাড়া আগে আমদানি করা তুলনামূলক খারাপ মানের জিরা প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় এবং মাঝারি মানের ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেসার্স আমেনা ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আজিম মুন্না বলেন, ‘এক বছর ধরেই খাতুনগঞ্জে জিরার দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত তিন মাসে, কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এই সপ্তাহে আবার কেজিতে ২০- ৩০ বাড়ছে।’ 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ মে থেকে চলতি বছরের ২৩ মে পর্যন্ত গত এক বছরে ৩৩ হাজার ৭০৩ মেট্রিক টন জিরা আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে চলতি অর্থবছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত। এই ৫ মাসে আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ১০১ মেট্রিক টন। যার অর্ধেকের বেশি আমদানি হয়েছে হিলি ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি অনেক কমেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আগের বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ জিরা আমদানি কমেছে। এ সময় আমদানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। যেখানে আগের বছর (২০২১-২২ অর্থবছর) আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন। 

আমদানি করা ৩৩ হাজার ৭০৩ মেট্রিক টন জিরার বিল অব এন্ট্রি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ জিরা আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ৮৫ ডলার করে। এসব জিরাই এখন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৭০-৮০০ টাকায়।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা যদি অতি মুনাফা করতে পারেন, মসলা ব্যবসায়ীরা কেন করবেন না। তাই যে যখন সুযোগ পাচ্ছেন, তা কাজে লাগিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছেন। সরকার যেহেতু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আমদানি মূল্যের দ্বিগুণ, তিন গুণ লাভ করছেন।’

জানতে চাইলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুলিস্তান টেডিংয়ের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইরান, আফগানিস্তান, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জিরা এখনও বাজারে আসেনি। সেগুলো জুলাই-আগস্টে বাজারে আসে, তাই এখন ভারত থেকেই স্থলপথে জিরা আমদানি হচ্ছে। ভারতে এবার ৩০ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে, যে কারণে ওই দেশে জিরার দাম বেশি। তাই বাংলাদেশে জিরার দাম বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া গত বছরের তুলনায় ডলারের দাম বেড়েছে, এলসি খোলার ক্ষেত্রে ৫০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন দিতে হয়। এ কারণে আমদানিকারকরা জিরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেও দাম বাড়ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা