প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
করোনা মহামারির পর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে চীনা অর্থনীতি। তবে পুনরুদ্ধারে ভাগ্য বদলায়নি দেশটির পুঁজিবাজারে থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। সামান্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও পুঁজিবাজারে দ্বিগুণ হারে কমছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ।
এর আগে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করেছিলেন, অর্থনীতির গতি ফিরবে, চাঙ্গা হবে পুঁজিবাজার। তবে তা না হয়ে বরং আবাসন খাতের অনিশ্চয়তা প্রভাব এড়াতে পারেনি পুঁজিবাজার।
এদিকে চীনের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে। ফলে পুঁজিবাজারের শক্তিশালী অবস্থান না থাকায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো বন্ড এবং সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান যারা ব্লু চিপ অর্জন করেছে তাদের শেয়ার দরও কমেছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এসব ব্লু চিপধারী কোম্পানির ২০ শতাংশ বিনিয়োগ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। তবে এবার সেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ফেরত দিতে শুরু করেছে। যার পরিমাণও গত এক বছরে কমেছে ১ শতাংশ।
এমনকি পুঁজিবাজারের সূচক হ্যাং সেং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং সার্বভৌম বন্ডের মূল্য কমতে শুরু করেছে। ফলে পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তবে পুঁজিবাজারের এমন অবস্থা দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাংহাইতে অবস্থানরত ৩০ বছর বয়সি এক প্রোগ্রামার। যিনি প্রায় তিন বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আসছেন। প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাই এবং বেকারত্বের আতঙ্কে ভীত হয়ে তিনি তার অর্ধেক সম্পদ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার লোকসান পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমি আর কোনো অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করব না। এই সময়ে নিরাপত্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার মূলধন হারাতে চাই না।’ এরকম প্রায় একই কথা বলেছেন অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।
চীনের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজারের একটি বড় শক্তি। পুঁজিবাজারের ৬০ শতাংশ লেনদেন তাদের মাধ্যমে হয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ই হুইম্যান। মার্কিন পুঁজিবাজারেও ২৫ শতাংশের দখল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান।
মার্চের শুরুতে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ালেও আবার তা নিম্নমুখী হয়েছে। এখন এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে চীনের সিকিউরিটিজ ট্রেডিং ব্যালেন্স। চীনের সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি এবং ক্লিয়ারিং ডেটা থেকে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছিল। তবে এপ্রিলে নিম্নমুখী হতে শুরু করে পুঁজিবাজার। এতেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমতে থাকে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।সূত্র : রয়টার্স