সোহেল চৌধুরী
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) বর্তমান সভাপতি এবং রপ্তানিমুখী চামড়া খাতের প্রতিষ্ঠান পিকার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। প্রবা ফটো
মো. সাইফুল ইসলাম। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) বর্তমান সভাপতি এবং রপ্তানিমুখী চামড়া খাতের প্রতিষ্ঠান পিকার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আসছে বাজেটে এমসিসিআইয়ের প্রত্যাশার কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। তিনি আশা করছেন, আসছে বাজেটে করপোরেট করহারে সুবিধা প্রদান ও উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থির করে দেওয়া হোক। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সোহেল চৌধুরী
আসছে বাজেটে এমসিসিআইয়ের প্রত্যাশা কী?
সাইফুল ইসলাম : এবার যে বাজেট ঘোষণা করা হবে, তা খুব চ্যালেঞ্জের হবে। এপ্রিল মাসের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে আমাদের রপ্তানি আয় তৈরি পোশাক খাত ছাড়া অন্য সব খাতেই কমেছে। এ ক্ষেত্রে এখন দরকার করপোরেট করহারে আরও সুবিধা দেওয়া। একই সঙ্গে রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হোক। আর এটা পাঁচ বছরের জন্য ফিক্সড করে দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছে এমসিসিআই।
করপোরেট করহার কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
সাইফুল ইসলাম : করপোরেট ট্যাক্স হার ২৫ শতাংশের ঘরে হওয়া উচিত বলে মনে করছি। আমরা দাবি করছি ট্যাক্স না বাড়িয়ে বরং একটু কমিয়ে ট্যাক্স জিডিপি রেশিওটাকে বাড়নোর ওপর জোর দেয়ার। এতে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণটা বাড়বে।
কর জিডিপির অনুপাত বাড়াতে করণীয় কী?
সাইফুল ইসলাম : কর জিডিপির অনুপাত বাড়াতে নতুন নতুন পদক্ষেপে যেতে হবে। আমরা শুনতে পাচ্ছি কর আহরণের পরিমাণ বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা বা একটি সংস্থাকে ব্যবহার করা হবে। এসব গোয়েন্দা তদারকির মাধ্যমে সফলতার হার খুব কম হয়। তার কারণ যাকে দিয়ে তদারকি করা হবে, সে কতটা সৎ বা স্বচ্ছ থাকবে সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। তাই আমার পরামর্শÑ যেসব এসএমইকে সরকার চিহ্নিত করেছে অর্থাৎ যারা ভালো করছে বা ভালো অবস্থানে রয়েছে, তাদের একটা ন্যূনতম কর দেয়ার জন্য বলা যেতে পারে। এ ছাড়াও যেসব জেলা প্রশাসক (ডিসি) রয়েছেন, তাদের কর আহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তি কিংবা ছোট ব্যবসায়ী পর্যায়ে ট্যাক্স কার্ড বিতরণ করবেন তারা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কী ভূমিকা থাকা প্রয়োজন?
সাইফুল ইসলাম : রাজস্ব আয় বাড়াতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় কি না সেদিকে নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট নির্ধারণের হার যৌক্তিক পর্যায়ে হওয়া উচিত। দেখা গেল সরকারের আয় বাড়ছে, এর বিপরীতে মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে আবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে আয় এবং ব্যয় সমান সমানের ঘরেই থেকে যাবে। অর্থাৎ খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ সামাজিক অস্থিরতা যেন না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ভ্যাট নির্ধারণ পদ্ধতির ওপর মনোযোগী হতে হবে।
কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
সাইফুল ইসলাম : কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন আমাদের মূল ফোকাস থাকা উচিত স্কিল বা দক্ষতার হারটা কীভাবে বাড়ানো যায় তার ওপর। যত বেশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যাবে, ততই লাভ। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষা বাড়ানো গেলে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানও লাভবান হবে। এ ছাড়াও বিদেশে যেসব মানুষ যাচ্ছেন, তাদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এতে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়েবে। সুতরাং কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধির বিকল্প কিছু নেই।
রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাজেটে কী ভূমিকা থাকা প্রয়োজন?
সাইফুল ইসলাম : রপ্তানির ক্ষেত্রে যে প্রণোদনা রয়েছে তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ সালটাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। কেননা ২০২৩-২৪ সালটা আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জের বছর। তার কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কবে শেষ হবে আমরা জানি না। এ ছাড়া এটা নির্বাচনের বছর। নির্বাচনের বছরে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। সবকিছু আমলে নিয়ে রপ্তানি আয় কিভাবে ঠিক রাখা যায় তার ওপর জোর দিতে হবে। ইতোমধ্যে রপ্তানি আয়ে একটা প্রভাব পড়েছে। এটা সামনে আরও ঘনীভূত হতে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কতটা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
সাইফুল ইসলাম : ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। সামনে অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন হবে হবে আশা করছি। তবে এখন নজর দেয়ার সময় এসেছে, যেসব প্রকল্প করা হয়েছে তা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখছে। অনেক প্রকল্প পাওয়া যাবে যেখান থেকে কোনো সুবিধাই আসছে না বা পাওয়া যাচ্ছে না। দেখতে হবে কোন প্রকল্প শতভাগ সফলতা দিচ্ছে আর কোন প্রকল্প সফলতা দিচ্ছে না, তা হিসাব করেই প্রজেক্ট রিপিটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বরং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় যেসব প্রকল্প আনডার ইউটিলাইজড বা আন-ইউটিলাইজড আছে, সেগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেদিকে ফোকাস দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃচ্ছ্রতা সাধনের জন্য যেসব প্রকল্প সুফল বয়ে আনে না, তা দ্বিতীয়বার যেন না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।